জ্বালানো হয় না কুশপুতুল, বরং চলে আরাধনা! জানেন কোথায় রয়েছে ভারতের এই রহস্যময় রাবণ মন্দির?

দেশজুড়ে বিজয়া দশমী বা দশেরা মানেই রাবণের কুশপুতুল পুড়িয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ উদযাপিত হয়। শ্রীরামচন্দ্রের জয়ের এই প্রতীকী উৎসবের ছবি সারা দেশেই দেখা যায়। কিন্তু এর ঠিক বিপরীতে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে রয়েছে এমন এক ব্যতিক্রমী মন্দির, যেখানে দশেরার দিন রাবণকে দহন করার বদলে তাঁর পুজো করেন ভক্তরা। শুধু তাই নয়, বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র একদিনই এই মন্দিরের দরজা খোলে!
কানপুরের শিবালা এলাকায় অবস্থিত এই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মন্দিরটি ‘দশানন মন্দির’ নামে পরিচিত। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই মন্দিরের অজানা কিছু তথ্য।
রাবণের শিবভক্তির আরাধনা
রামায়ণে রাবণকে লঙ্কার রাজা এবং শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিপক্ষ হিসেবেই সকলে চেনেন। সীতা হরণের অপরাধে তাঁর করুণ পরিণতি হলেও, তাঁর চরিত্রের অন্য একটি উজ্জ্বল দিকও রয়েছে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিদ্বান, বেদজ্ঞ পণ্ডিত এবং দেবাদিদেব মহাদেবের পরম ভক্ত। কানপুরের এই দশানন মন্দিরে রাবণের সেই অপরিসীম জ্ঞান ও শিবভক্তিকেই বিশেষ সম্মান জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৯০ সালে মহারাজ গুরু প্রসাদ শুক্ল এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিবালা এলাকার বিখ্যাত কৈলাস মন্দির এবং ছিন্নমস্তিকা দেবী মন্দিরের পাশেই অবস্থিত এই দশানন মন্দিরে রাবণের প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু একটি মূর্তি রয়েছে।
বছরে মাত্র একদিন কেন খোলে দরজা?
স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণের বন্দিদশার প্রতীক হিসেবেই বছরের বাকি ৩৬৪ দিন এই মূর্তিটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। কিন্তু ঠিক বিজয়া দশমীর দিন সকালেই এই মন্দিরের তালা খোলে, মূর্তির উপর থেকে আবরণ সরিয়ে শুরু হয় বিশেষ পুজো ও আরতি। সারা বছর ধরে বন্ধ থাকা এবং শুধুমাত্র দশেরার দিন পূজিত হওয়ার এই অদ্ভুত প্রথার টানেই দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় জমান কানপুরের এই বিরল মন্দিরে।