‘বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়াব!’ হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েই জামিন পেলেন প্রমোদ নিগম হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে এক অভূতপূর্ব ও স্বস্তিদায়ক রায় পেলেন বারাণসীর প্রমোদ নিগম হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নন্দলাল রায় ওরফে বাবলু রায়। উচ্চ আদালত আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর দণ্ডাদেশ ও সাজার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করার পাশাপাশি তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে।

নন্দলাল রায় আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি পূর্বে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং আসন্ন ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হয় বিজেপি প্রার্থী হিসেবে অথবা নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। সাজা স্থগিত না থাকলে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন— এই যুক্তিতেই আদালত তাঁকে জামিন প্রদান করে।

কী ঘটেছিল ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি?

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে বারাণসীর সিগরা থানা এলাকায়। নিহত প্রমোদ নিগম ছিলেন ‘ন্যাশনাল স্ট্রিট ভেন্ডরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পুরসভা কর্তৃক মনোনীত ‘স্বচ্ছতা দূত’। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত নন্দলাল মদ্যপ অবস্থায় জওহর মার্কেটে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করছিলেন। স্থানীয় দোকানদাররা বাধা দিলে বচসা শুরু হয় এবং প্রমোদ নিগম তাঁকে চড় মারেন।

সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই নন্দলাল তাঁর এক বন্ধুকে ডেকে এনে বাইকে করে ধাওয়া করেন এবং প্রমোদ নিগমকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করে দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৫ই এপ্রিল বারাণসীর নিম্ন আদালত নন্দলাল রায়কে খুনের ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

আদালতের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আপিল করেন নন্দলাল। বিচারপতি সিদ্ধার্থ ও বিচারপতি বিনয় কুমার দ্বিবেদীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাজা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। শুনানির সময় বেঞ্চ একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানায়, “একজন সাধারণ নাগরিকের জীবিকার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকারও কোনো অংশে কম নয়।”

তবে এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নন্দলাল রায়কে কিন্তু এই হত্যা মামলা থেকে নির্দোষ খালাস দেওয়া হয়নি। রায় ও সাজার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে কেবল জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই মামলার ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *