ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ কেনার আগে সাবধান! সামান্য অবহেলাই ডেকে আনতে পারে কিডনি ফেলিওর থেকে বড় বিপদ

সামান্য সর্দি, কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা কিংবা একটু আধটু গাঁটের ব্যথার মতো ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লেই অনেকেই আর ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। বরং সোজা ওষুধের দোকানে গিয়ে কেমিস্টের কথামতো বা ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ওষুধ কিনে খেয়ে নেন। সময় বাঁচানোর এই অভ্যাসটি আপাতদৃষ্টিতে সুবিধাজনক মনে হলেও, এটি আপনার শরীরের জন্য কতটা মারাত্মক হতে পারে, সে বিষয়ে হয়তো আপনার ধারণাও নেই। আজকাল তো আবার মানুষ রোগ সারাতে ইন্টারনেট কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র সাহায্যও নিচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া কেন বিপজ্জনক?

এমএমজি ফার্মা-র বিশিষ্ট চিকিৎসক নরেন্দ্র শর্মার মতে, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ওষুধ সেবনের অত্যন্ত গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি হতে পারে। এর পেছনে মূলত বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

  • ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন (Drug Interaction): যেকোনো ওষুধ অন্য কোনো ওষুধের সাথে বিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশন করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন লিভার বা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

  • ভুল মাত্রা (Wrong Dosage): প্রতিটি ওষুধের সঠিক মাত্রা, দুটি ডোজের মধ্যকার নির্দিষ্ট ব্যবধান এবং খাওয়ার সঠিক নিয়ম রয়েছে। নিজে নিজে ওষুধ খেলে এই সঠিক তথ্যগুলো জানা যায় না, যা শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

  • রোগীর ইতিহাস ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করার আগে রোগীর পূর্বের চিকিৎসার ইতিহাস, ওষুধের উপকারিতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো খুঁটিয়ে বিবেচনা করেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই বিচারবুদ্ধি থাকা সম্ভব নয়।

ব্যথানাশক ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার

বিশেষ করে বহু মানুষ সামান্য ব্যথা হলেই দেদার ব্যথানাশক বা পেইনকিলার খেয়ে থাকেন। এনএসএআইডি (NSAID) বা নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা জানান, এই ধরনের ওষুধ সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও তা দৈনিক বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়।

পাশাপাশি, অনেক শক্তিশালী প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা নারকোটিক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই জাতীয় ওষুধের অপব্যবহার বা অতিরিক্ত সেবন শুধু শরীরে মারাত্মক আসক্তিই তৈরি করে না, বরং জীবন সংশয়ের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সামান্য শারীরিক অস্বস্তিতেও নিজে ডাক্তার না সেজে চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *