বৃষ্টি নামতেই দড়ি ফেলে পালায় হোমগার্ডরা! চোরবাগান ট্র্যাজেডি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দুর

কলকাতার চোরবাগানে সপ্তমী সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক তখনই কলকাতা পুলিশের পক্ষে সাফাই গেয়ে সমস্ত দায় অস্থায়ী হোমগার্ডদের ঘাড়ে চাপালেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি হোমগার্ডদের একাংশের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

পুলিশের সাফাইয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ ছিল, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পুলিশই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, “আমি কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি পুলিশ সাহায্য করেছে। পুলিশই প্রথম অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।”

নিশানায় অস্থায়ী হোমগার্ডরা

মূলত অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিকেই আঙুল তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ আলাদা না করে দড়ি দিয়ে তা ভাগ করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি নামতেই হোমগার্ডরা সেই দড়ি ফেলে পালিয়ে যায়, যার ফলে হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কাল রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঘটনা ভিতরে হয়নি। …এক হোমগার্ডের সঙ্গে শনিবার কথা বলেছি, যিনি বাংলায় থেকেও বাংলায় কথা বলতে পারেন না।” এরপরই তীব্র কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ওরা কারা? অনেক গারবেজ নিয়ে চলেছি।” ইতিমধ্যে সমস্ত অস্থায়ী হোমগার্ডদের সম্পূর্ণ তালিকা তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে পুলিশ ইতিমধ্যেই পুজো কমিটির কর্তাসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভিআইপি পাসের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্মীকেও পুলিশ পাকড়াও করেছে। মণ্ডপগুলিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি বিশেষ দল পাঠানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *