আরজি কর কাণ্ডের আর্থিক দুর্নীতির জট! সন্দীপ ঘোষের জামিনের নেপথ্যে বড় কারণ জানাল শীর্ষ আদালত

বহুল আলোচিত আরজি কর কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের স্বস্তি পেলেন প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। কলকাতা হাইকোর্ট এর আগে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেও, দীর্ঘ দুই বছর জেলবন্দি থাকার পর শুক্রবার তাঁকে জামিন দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের রোমহর্ষক ঘটনার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতি ও টেন্ডার কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসে। ইডি এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়েন সন্দীপ ঘোষ। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি লড়াইয়ের পর শুক্রবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
ঠিক কী কারণে জামিন পেলেন সন্দীপ ঘোষ? আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত দুটি বিশেষ দিক বিবেচনা করে সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে:
-
দীর্ঘদিন কারাবাস ও শ্লথ বিচারপ্রক্রিয়া: প্রায় দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি রয়েছেন সন্দীপ ঘোষ। কিন্তু আর্থিক দুর্নীতির এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
-
সাক্ষ্যগ্রহণে চরম বিলম্ব: এই মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ১৪৭ জন। অথচ দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই গতিতে বিচার চললে মামলা শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে।
জামিন পেতেই শুরু রাজনৈতিক ও চিকিৎসকমহল মহলে বিতর্ক: হাইকোর্টের নির্দেশকে বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট জামিন দিলেও, পুজোর মুখে এই রায়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস’-এর পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, ইচ্ছেকৃতভাবেই সিবিআই তদন্তে ঢিলেমি করছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদেরও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন চিকিৎসকরা।