পুজোর আনন্দ মাটি করতে আসছে কে? আবহাওয়ার মেগা পূর্বাভাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল বঙ্গবাসী!

শরতের আকাশ আর দুর্গাপূজা একে অপরের পরিপূরক। মিঠে রোদ, ভোরে হালকা ঠান্ডার আমেজ আর নাতিশীতোষ্ণ সন্ধ্যায় প্যান্ডেলে ঘোরাঘুরি—এমন আবহাওয়াই প্রত্যাশা করেন আপামর বাঙালি। কারণ বছরের এই পাঁচটি দিন ফিরে আসে উৎসবের পরম আনন্দে মেতে ওঠার জন্য। তবে সেই আনন্দ যদি হঠাৎ বৃষ্টির জলে পণ্ড হয়ে যায়, তাহলে সমস্ত উৎসাহ নিমেষে মাটি হয়ে যায়। এবারের দুর্গোৎসবের প্রাক্কালেও ঠিক তেমনই এক জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, পুজোর আনন্দ মাটি করতে কি তবে ফের হাজির হচ্ছে কোনো অনভিপ্রেত বৃষ্টি? তবে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর শুনিয়ে আবহাওবিদরা জানিয়েছেন যে, এবারের পুজো মূলত শুকনোই কাটবে এবং প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে নির্বিঘ্নে ঠাকুর দেখতে পারবেন সকলে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাষষ্ঠী বা বড় ছুটির ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি এড়ানো যাচ্ছে না। মূলত তামিলনাড়ু থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবেই উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে পুজোর মূল দিনগুলিতে এই দুর্যোগ কাটবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দ্বিতীয় সপ্তমী অর্থাৎ রবিবার থেকে একেবারে দশমী পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক বা ‘ড্রাই ডে’ থাকবে। অর্থাৎ উৎসবের চার দিন দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই। একইভাবে উত্তরবঙ্গেও অষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত আবহাওয়া মূলত পরিষ্কার ও শুকনো থাকার কথা। যদিও বর্ষা বিদায়ের পরেও এই নিম্নচাপের জেরে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকতে পারে, তবুও পুজোর আনন্দ মাটি করার মতো বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস আপাতত নেই। ফলে উৎসবের এই কটা দিন মেঘ-রোদের লুকোচুরি খেলায় মেতে উঠে বিন্দাস পুজো উপভোগ করতে পারবেন বাংলার মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *