সুপ্রিম কোর্টে রাহুলের ভাগ্যপরীক্ষা! এসআইআর বনাম দিল্লি বিক্ষোভ মামলায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ আদালতের!

দিল্লির উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ার মধ্যে এবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রাজধানী দিল্লির রাজপথের হাই-ভোল্টেজ বিক্ষোভ আন্দোলন এবং এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত একাধিক চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলার ধারাবাহিক শুনানির জন্য সম্পূর্ণ পৃথক পৃথক দিন ধার্য করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিটি মামলার গুরুত্ব এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা আলাদা হওয়ার কারণেই অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে দিনক্ষণ বিভাজন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ শুনানি প্রক্রিয়া পরিচালিত করা হবে, যাতে প্রতিটি আবেদনে ন্যা বিচারের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং এসআইআর-সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্ত সংযুক্ত মেগা মামলাগুলির হাই-ভোল্টেজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ৩ নভেম্বর দিল্লির বিতর্কিত রাজনৈতিক বিক্ষোভ, বিক্ষোভকারীদের দমনে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা, ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিতর্কিত গণবিক্ষোভ এবং তৎসংক্রান্ত অন্যান্য আবেদনের শুনানি গ্রহণ করবে সর্বোচ্চ আদালত। পরবর্তী ক্ষেত্রে আগামী ৫ নভেম্বর বিক্ষোভ কভার করতে যাওয়া মহিলা সাংবাদিকদের ওপর অনভিপ্রেত যৌন হয়রানির যে গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছিল, সেই বিশেষ সুনির্দিষ্ট মামলাটির শুনানি আলাদাভাবে গ্রহণ করা হবে।
সবশেষে আগামী ১৯ নভেম্বর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৭২ নম্বর ধারার সাংবিধানিক বৈধতা এবং ১৬৩ নম্বর ধারায় দিল্লি পুলিশ কর্তৃক জারি করা অভূতপূর্ব নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশগুলিকে পৃথকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা গুরুত্বপূর্ণ আবেদনগুলির শুনানি নির্ধারিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, মামলাগুলির বিচারে গতি আনতে এবং আইনি প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সুপ্রিম কোর্ট এক বিশেষ নির্দেশ জারি করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিক্ষোভ সংক্রান্ত মামলাগুলিকে সঠিকভাবে একত্রিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নোডাল আইনজীবীকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত মামলার একটি পরিষ্কার ক্যাটাগরি বা শ্রেণিবিন্যাস চূড়ান্ত করতে হবে। আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো, মামলাগুলির জটিলতা হ্রাস করে সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য একটি সমন্বিতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবি হলফনামা (কাউন্টার-অ্যাফিডেভিট) দাখিলের সার্বিক প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও মসৃণ করা।
মূল ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বিতর্কিত এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দিকে আঙুল তুলে এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এই ইস্যুতে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে রাজধানীর রাজপথে একযোগে বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয় বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। সেই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল ককরোচ জনতা পার্টিও (CJP)। পরবর্তী সময়ে এই বিশাল দিল্লি বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে আরও একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন সেই উত্তাল বিক্ষোভের ভিডিও কভারেজ ও সংবাদসংগ্রহ করতে যাওয়া এক পেশাদার মহিলা সাংবাদিককে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক কর্তৃক মারাত্মক যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর ঘটনায় তৃতীয় আর একটি পৃথক ফৌজদারি মামলা সরাসরি শীর্ষ আদালতের দরজায় পৌঁছায়। যদিও পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট একই রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে, তবুও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তিনটি মামলার মূল বিষয়বস্তু, আইনি ধারা ও অভিযোগের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাই তিনটি আলাদা বিষয়ের সংবেদনশীলতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার জন্য চারটি ভিন্ন দিন নির্ধারণ করে বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতার সাথে চূড়ান্ত রূপ দিতে চলেছে।