ট্রুডো আমলের বরফ গলে জল! মেগা ডিসেম্বরে মোদী যাচ্ছেন কানাডা, বদলে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি?

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক কূটনীতির ইঙ্গিত দিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই কানাডা সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার ভারতীয় সময় গভীর রাতে অটোয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিশেষ সরকারি বিবৃতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১১ ও ১২ ডিসেম্বর দুদিনের সরকারি সফরে কানাডায় অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সম্প্রতি কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে টেলিফোনে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপের পরই দুই রাষ্ট্রনেতা পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এই শীর্ষ বৈঠকে বসার বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতিতে পৌঁছান।

অটোয়ার ভারতীয় দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন সফর নিয়ে একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ১১ ও ১২ ডিসেম্বর কানাডা সফর করবেন।” ওই পোস্টে আরও যোগ করে বলা হয়েছে যে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে সাম্প্রতিক ফোনালাপে দুই রাষ্ট্রনেতাই ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান ইতিবাচক গতিধারাকে আগামী দিনে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত হয়েছেন। মূলত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। ফোনালাপ শেষে নিজের গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী নিজেই। দুই দেশের এই ঐতিহ্যবাহী আলোচনাকে অত্যন্ত ‘আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করে ভারত-কানাডা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ বা কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন তিনি। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা ভারত-কানাডা সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারাকে যৌথভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের মূল ক্ষেত্রগুলিতে—বিশেষ করে বাণিজ্য, বিশ্বমানের জ্বালানি খাত, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অর্জনের জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে কূটনৈতিক স্তরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই কানাডা সফর এশীয় ও পশ্চিমা দেশগুলির সম্পর্কের নতুন এক মেরুকরণ ঘটাবে। বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসায়ী, আইটি পেশাদার এবং প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য এই হাই-ভোল্টেজ সফর বিপুল নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *