নতুন জুতোর কামড়ে পুজো মাটি? প্যান্ডেলে হাঁটার আগে এই টোটকা না জানলে চরম বিপদে পড়বেন!

বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড় আর তার সঙ্গে ম্যাচিং করে নতুন জুতো কেনার এক অদম্য উৎসাহ। পুজোর কটা দিন জমজমাট প্যান্ডেল হপিং, ঘণ্টা ধরে হেঁটে ঠাকুর দেখা আর বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা—এসবের জন্য চাই আরামদায়ক অথচ স্টাইলিশ জুতো। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখনই, যখন সেই সাধের নতুন জুতো পায়ে গলিয়েই রাস্তায় নামতে না নামতেই গোড়ালি বা আঙুলের ফাঁকে ঘষা লেগে শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা এবং অসহ্য ফোস্কা! পায়ের সেই ফোস্কার যন্ত্রণায় তখন পুজো ঘোরা তো দূরে থাক, ঘরে ফিরে বিছানা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, তবে কি পুজোয় নতুন জুতো কেনাই বৃথা? একদমই না! একটু সচেতন হলে এবং কিছু সহজ ঘরোয়া কৌশল জানা থাকলে নতুন জুতোর কামড় থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
নতুন জুতো পরার সময় পায়ে ঘর্ষণ ও ফোস্কা পড়ার সমস্যা অত্যন্ত কমন একটি বিষয়। চামড়ার জুতো বা স্নিকার্স শুরুতে কিছুটা শক্ত থাকে বলেই এই বিপত্তি ঘটে। তবে ফোস্কা পড়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে জুতো পরার আগেই কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। জুতো পায়ে গলানোর আগে জুতোর যে অংশটি গোড়ালি বা পায়ের আঙুলে বেশি ঘষা খাচ্ছে, সেখানে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি বা ঘন বডি লোশন লাগিয়ে নিতে পারেন। এর ফলে জুতোর চামড়া ও ত্বকের মধ্যকার ঘর্ষণ অনেকটাই কমে যায় এবং ফোস্কা পড়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এছাড়া জুতো পরার আগে গোড়ালি বা সম্ভাব্য সংবেদনশীল স্থানে একটি ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ ব্যান্ড-এইড কিংবা স্পেশাল ব্লিস্টার প্লাস্টার লাগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত ফলদায়ক। জুতোটি যদি স্নিকার্স বা লোফার্স হয় এবং খালি পায়ে পরার অভ্যাস থাকে, তবে সুতি বা পাতলা নো-শো মোজা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
জুতো যদি খুব শক্ত হয়, তবে তা পরার আগে নরম করার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। নতুন জুতো পায়ে দেওয়ার আগে হাত দিয়ে জুতোর পিছন দিকটা একটু বাকিয়ে নরম করে নিতে পারেন। এছাড়া মোটা সুতির মোজা পরে বাড়িতে কিছুক্ষণ নতুন জুতো পায়ে হেঁটে নিলে তা পায়ের মাপে কিছুটা প্রসারিত ও আরামদায়ক হয়ে যায়।
তবে সমস্ত সতর্কতা সত্ত্বেও যদি দুর্ভাগ্যবশত পায়ে ফোস্কা পড়ে যায়, তবে সেটির সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ না ঘটে। প্রথম এবং প্রধান নিয়ম হলো—ভুল করেও ফোস্কা ফাটানোর চেষ্টা করবেন না। ফোস্কার ভেতরের স্বচ্ছ তরলটি ত্বককে প্রাকৃতিক উপায়ে সুরক্ষা প্রদান করে। নিজে থেকে তা গলিয়ে দিলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। ক্ষতস্থানটি নিয়মিত হালকা গরম জল এবং মাইল্ড সাবান দিয়ে আলতো হাতে পরিষ্কার করে শুষ্ক রাখতে হবে। ঘর্ষণ এড়াতে ওপর থেকে একটি হালকা গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে তা ঢেকে রাখা ভালো। ফোস্কার জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমাতে খাঁটি অ্যালোভেরা জেল কিংবা সামান্য নারকেল তেল লাগাতে পারেন, যা ত্বককে দ্রুত ঠান্ডা ও শান্ত রাখে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পায়ের যেকোনো ছোট আঘাত বা ফোস্কা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চলুন, আর নতুন জুতোর কোনো চিন্তা ছাড়াই বিন্দাস কাটিয়ে ফেলুন আপনার এবারের দুর্গাপুজো।