ট্রেনে এবার আর পচা খাবার নয়! যাত্রী সুরক্ষায় IRCTC-র মাস্টারস্ট্রোক, বদলে যাচ্ছে পরিষেবা!

ভারতীয় রেলে যাতায়াতের সময় খাবারের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ বহুদিনের। বাসি খাবার পরিবেশন, রান্নার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মতো সমস্যা প্রায়শই শিরোনামে উঠে আসে। তবে এবার আর সেই দিন থাকছে না। রেলযাত্রীদের স্বস্তি দিতে এবং ট্রেনের খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা শতপ্রতিশত নিশ্চিত করতে এক অত্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন বা আইআরসিটিসি। ট্রেনের ভেতরে এবং বিভিন্ন রেলস্টেশনের ক্যাটারিং ইউনিটগুলিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখতে কোয়ালিটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া বা কিউসিআই-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করল আইআরসিটিসি। এই মেগা চুক্তির ফলে রেলের ক্যাটারিং ব্যবস্থার অন্দরে চালু হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বাধীন থার্ড পার্টি অডিট পরিকাঠামো।
আইআরসিটিসি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার থেকে কোনো রকম আগাম বার্তা ছাড়াই প্রশিক্ষিত ও শংসাপত্রপ্রাপ্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন রানিং ট্রেন এবং স্টেশনের ফুড স্টলগুলিতে হানা দেবেন। এই পুরো ব্যবস্থাটি সচল রাখতে তিন মাস অন্তর এবং ছ’মাস অন্তর নির্দিষ্ট অডিট বা পরিদর্শন পিরিয়ড নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ টিমটি খতিয়ে দেখবে রান্নার প্রতিটি ক্ষেত্রে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআই-এর কঠোর নিয়মাবলী যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না। কোনো রকম গাফিলতি বা অনিয়ম নজরে আসলেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সমগ্র অডিট প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হবে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে। পরিদর্শকদের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখান থেকে জিপিএস লোকেশন, নির্দিষ্ট সময় এবং একাধিক টাটকা ছবি-সহ যাবতীয় প্রমাণ সংগৃহীত হবে। পরিদর্শনের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় টিমের কাছে। কোথাও খাবারের ত্রুটি বা অপরিচ্ছন্নতা ধরা পড়লে বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট ক্যাটারিং সংস্থার বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুধু খাবারের টেস্ট বা মান পরীক্ষা করাই এই উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য নয়; এর পাশাপাশি ক্যাটারিং কর্মীদের সার্বিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। রান্নার কাজে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত মেডিক্যাল ফিটনেস পরীক্ষা, গ্লাভস, মাস্ক ও সুরক্ষামূলক পোশাকের বাধ্যতামূলক ব্যবহার এবং যাত্রীদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বজায় থাকছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়াও নিরামিষ ও আমিষ খাবারের কাঁচামাল সম্পূর্ণ আলাদা রাখা, খাবার নির্দিষ্ট উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা এবং রান্নাঘরে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের যাত্রীদের পাহাড়প্রমাণ অভিযোগের পর রেলের এই অভূতপূর্ব ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা ক্যাটারিং জগতে কতখানি বৈপ্লবিক বদল আনে, এখন সেটাই দেখার।