‘তুমি আমার বাবা নও!’ বিগ বসের ঘরে রাজবীর-নন্দিনীর তীব্র ঝগড়া, তুলকালাম কাণ্ড

‘বিগ বস বাংলা’র অন্দরমহলে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। খেলা যত গড়াচ্ছে, ততই প্রতিযোগীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে এবং মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে উঠছে। সম্প্রতি শো-এর একটি বিশেষ টাস্ককে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক ধুন্ধুমার কাণ্ড, যার জেরে রণেঙ্গণের রূপ নিল বিগ বসের ঘর। চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই জনপ্রিয় মুখ—ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি রাজবীর দে এবং নন্দিনী দত্ত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে টাস্কের রণকৌশল থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং পারিবারিক প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ‘সুবুদ্ধি এবং দুর্বুদ্ধি’ নামের একটি আকর্ষণীয় টাস্ককে ঘিরে। নিয়মানুযায়ী, এই খেলায় রাজবীর ছিলেন ‘মানুষ’ রূপী প্রতিযোগী। তাঁর ‘সুবুদ্ধি’র ভূমিকা পালনের দায়িত্বে ছিলেন নন্দিনী দত্ত এবং ‘দুর্বুদ্ধি’র চরিত্রে অবতীর্ণ হন অভিনেতা জীতু কমল। খেলার শর্ত অনুযায়ী, দুর্বুদ্ধি জীতুর নানা ফাঁদ ও বাধা থেকে মানুষরূপী রাজবীরকে রক্ষা করতে হবে সুবুদ্ধি নন্দিনীকে। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার ঠিক আগেই নন্দিনীকে তাঁর রণকৌশল নিয়ে সতর্ক করতে যান রাজবীর। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জীতুর শারীরিক শক্তি নন্দিনীর তুলনায় অনেকটাই বেশি এবং এর আগে অন্যান্য টাস্কেও প্রতিযোগীদের সাবোটাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে জীতুর। তাই লড়াইয়ের ময়দানে নন্দিনীকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে এই সরল সতর্কবার্তাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিজের সক্ষমতা ও শারীরিক শক্তি নিয়ে রাজবীরের এই তুলনা মোটেই সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি নন্দিনী। তাঁর আত্মসম্মানে সরাসরি আঘাত লাগায় তিনি চোটপাট শুরু করেন। পালটা জবাব দিতে ছাড়েননি রাজবীরও। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, নন্দিনী নিজের ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা কখনই স্বীকার করতে চান না এবং টাস্ক সংক্রান্ত গঠনমূলক আলোচনা হলেই অযথা নাটক তৈরি করেন। এতে ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় নন্দিনীর। রাগের বশে তিনি সটান বলে বসেন, “তুমি আমার বাবা নও! কী করব আর কী করব না, সেটা আমায় বলতে আসবে না।”
টাস্কের আলোচনার মাঝে হঠাৎ এমন বাবা-মার প্রসঙ্গ টেনে আনা মোটেও বরদাস্ত করতে পারেননি রাজবীর। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি পাল্টা জবাব দেন যে, অহেতুক ফালতু কথা বলা হচ্ছে এবং তিনি কোনওভাবেই নন্দিনীর অভিভাবক হতে চান না। এরপর বিষয়টি নিয়ে জীতু কমলের কাছেও নালিশ জানান তিনি। অন্যদিকে, নন্দিনীর স্পষ্ট যুক্তি ছিল—একজন পুরুষ হয়ে রাজবীর কখনওই একজন মহিলার শারীরিক শক্তিকে খাটো করে দেখতে পারেন না। ছেলে ও মেয়ের শারীরিক গঠনে তফাত থাকলেও তা লড়াইয়ের ময়দানে আগাম অক্ষমতা হিসেবে দেগে দেওয়া যায় না। যদিও ঘরের এই তুমুল উত্তেজনার জল বেশিদূর গড়ায়নি। ঝড়ের গতিতে কথাকাটাকাটি হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বরফ গলে যায় এবং দুজনের মধ্যে মিটমাট হয়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে বিগ বসের অন্দরে কখন কার মেজাজ চড়ে যাবে, তা আগাম বলা অসম্ভব।