পঞ্চমীর সকালে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা! যশোর রোডে ডিজেলভর্তি ট্যাঙ্কার উল্টে বিপাকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও নিত্যযাত্রী

মহাষষ্ঠীর ঠিক আগে মহাসপ্তমীর আমেজের মধ্যেই উৎসবের আনন্দে বড় ধাক্কা। ঠিক পঞ্চমীর ব্যস্ত সকালে কলকাতার উপকণ্ঠে যশোর রোডের ওপর ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বারাসাত অভিমুখে যাওয়ার পথে বিরাটি মোড়ের ঠিক কাছে একটি বিশাল ডিজেলভর্তি ট্যাঙ্কার হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে রাস্তায় উল্টে যায়। ট্যাঙ্কারটি উল্টে যাওয়ার পরেই তার ভেতর থেকে গলগল করে ডিজেল বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ রাস্তা ভেসে যায়। আর এর জেরে শুধু তীব্র যানজটই তৈরি হয়নি, বরং রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় একের পর এক বাইক ও দুই চাকার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। উৎসবের দিনে এই আকস্মিক ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর সকালে যখন শহরজুড়ে শেষ মুহূর্তের পুজোর কেনাকাটা ও প্যান্ডেল হপিংয়ের উন্মাদনা চরমে, ঠিক তখনই এই বিপত্তি ঘটে। বিমানবন্দর থেকে বারাসাতমুখী অত্যন্ত ব্যস্ত ওই রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্যাঙ্কারটির চালক হঠাৎই গাড়ির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং সেটি রাস্তার মাঝেই আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে ট্যাঙ্কারটি উল্টে যাওয়ার পরেই তার বডি ফেটে গিয়ে ডিজেল রাস্তায় গড়িয়ে পড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার অনেকটা অংশ ডিজেলের পিচ্ছিল স্তরে ঢেকে যায়।
এর জেরে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন দুই চাকার যানের চালকরা। রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় যারা ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বাইক বা স্কুটার থেকে পিছলে পড়ে সামান্য আহত হন। একে একে একাধিক বাইকচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকে অবিলম্বে ওই রুটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে যশোর রোডের দুই দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বারাসাতগামী মূল সড়কে গাড়ি চলাচল কার্যত থমকে যাওয়ায় বহু মানুষ বিমানবন্দরে সময়মতো পৌঁছাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এয়ারপোর্ট ট্রাফিক গার্ডের বিশেষ দল এবং দমকলের ইঞ্জিন। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ অর্থাৎ ডিজেল থেকে যাতে বড় ধরনের কোনো অগ্নিকাণ্ড না ঘটে, তার জন্য দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে জল দিয়ে রাস্তা ধুয়ে ফেলার কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি, পিচ্ছিল রাস্তায় যাতে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বালু বা মাটি ফেলে রাস্তা নিরাপদ করার চেষ্টা চলছে। তবে পঞ্চমীর সকালে এই ট্যাঙ্কার কাণ্ডের জেরে উত্তর ২৪ পরগনার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘক্ষণ ধরে তীব্র যানজট বজায় থাকে। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ক্রেন এনে উল্টে যাওয়া ট্যাঙ্কারটিকে সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ চালাচ্ছে। উৎসবের মরশুমে এই ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছানোয় স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।