রোজকার পাতে রুটি তো খান, জানেন কি এর আসল ইংরেজি নাম? শুনলে চমকে যাবেন!

প্রতিদিনের ডায়েটে রুটি অত্যন্ত সাধারণ এবং অপরিহার্য একটি খাবার হলেও একে ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। রোজকার খাদ্যাভ্যাসের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি সারা দেশেই ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে এই চেনা খাবারটির এমন কিছু অজানা দিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে যা অনেকের কাছেই এখনও অজানা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই পুষ্টিকর খাবারের আলাদা আলাদা নাম প্রচলিত রয়েছে। উত্তর ভারতের দিকে এটিকে মূলত চাপাটি বলা হলেও, জায়গা বিশেষে একে ফুলকা বা রুটি বলা হয়। নাম যাই হোক না কেন, নরম তুলতুলে এই খাবারের জনপ্রিয়তা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে সমানভাবে বিরাজমান।
দোকানে নানা দামের ও ব্র্যান্ডের আটা পাওয়া গেলেও, গুণমানের দিক থেকে মধ্যপ্রদেশের শরবতী গমকে সব সময় সেরা ধরা হয়। এই বিশেষ জাতের গমের আটা দিয়ে তৈরি খাবার স্বাদে এবং পুষ্টির পরিমাণে অনেকটাই এগিয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই নরম এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এই বিশেষ আটার চাহিদাও থাকে সবসময় তুঙ্গে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা তাই খাঁটি গমের আটার রুটিকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
গম থেকে তৈরি এই খাবারে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা মানুষের হজম ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে। এর পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেটের দুর্দান্ত উৎস হওয়ায় এটি শরীরকে দীর্ঘক্ষণ এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে। রোজকার ডায়েটে এটি নিয়মিত রাখলে কাজের মাঝে সহজে ক্লান্তিবোধ আসে না। বর্তমানে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন মানুষেরা সাধারণ গমের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টিকর শস্যের দিকেও ঝুঁকছেন। জোয়ার, বাজরা, রাগি বা ভুট্টার ব্যবহার শরীরে ফাইবারের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। তাই চিরাচরিত অভ্যাসের বদলে ডায়েটে মাল্টিগ্রেন আটার ব্যবহার এখন সব মহলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে বিচার করলে রুটিকে রীতিমতো এনার্জির পাওয়ার হাউস বলা যেতে পারে। একটি সাধারণ আটার রুটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন থাকে এবং মেলে জরুরি ক্যালসিয়াম ও খনিজ। তাই শুধু ভাত খাওয়ার চেয়ে নিয়মিত রুটি খাওয়া শরীরের জন্য অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর বলে মনে করেন পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। গরম তাওয়ায় দেওয়ার পর ম্যাজিকের মতো গোল হয়ে ফুলে ওঠে রুটি, যার নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানের দারুণ এক খেলা। আটা মাখার পর তা সেঁকার সময় ভেতরের জলীয় অংশ ফুটন্ত বাষ্পে পরিণত হয়। সেই বাষ্প প্রোটিন বা গ্লুটেনের জালে আটকে গিয়েই রুটিকে এমন সুন্দর ও গোল আকার দেয়।
এবার আসা যাক সেই বহু চর্চিত প্রশ্নে, এই সাধারণ খাবারটির আসল ইংরেজি নাম ঠিক কী। অনেকেই একে মেক্সিকান খাবার টর্টিলা ভেবে ভুল করেন, তবে সেটি একেবারেই সঠিক নয়। বিশ্বজুড়ে এই চেনা খাবারটিকে মূলত ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাট ব্রেড বা শুধু ফ্ল্যাট ব্রেড নামেই চেনা হয়। তবে রুটির নির্দিষ্ট বা আক্ষরিক কোনও ইংরেজি শব্দ নেই, বোঝার সুবিধার জন্যই এই ধরনের ইংরেজি নাম ব্যবহার করা হয়।