“স্ত্রীকে BJP প্রার্থী করতে দিল্লির দরবারে”-নাম না করে কাকে ‘নির্লজ্জ’ বললেন কুণাল?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের একবার তীব্র রাজনৈতিক কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও পোস্টে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং শেষে ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে, তবুও এই আক্রমণ যে বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর বিধায়িকা স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ধেয়ে গেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো দ্বিমত নেই।
কুণাল ঘোষ নিজের এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “বেইমানির সব সীমা পার করে যাচ্ছেন কিছু নরকের কীট। স্ত্রীকে নিয়ে দিল্লির দরবারে। পরের লোকসভায় স্ত্রীকে BJP প্রার্থী করতে হবে। এখন এখানে ওঁর অনুগামীদের পুরভোটে টিকিট দিতে হবে।” এর পরেই কটাক্ষ করে তিনি আরও লেখেন, “লক্ষ্মীপুজোয় মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়িতে আমন্ত্রণ। নির্লজ্জ বেহায়া গদ্দার লোভী সুবিধাবাদী চক্রান্তকারী।”
প্রসঙ্গত, অতীতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদল বা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। খোদ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। এমনকি অমিত শাহের সঙ্গে নয়নার কথোপকথন এবং বিরোধী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের গুঞ্জন তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে সন্দেহের মেঘ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়ার দরকষাকষি এবং পুরভোটের আগে অনুগামীদের জন্য দলীয় টিকিটের দাবি তুলতেই এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত চরমে উঠেছে। তৃণমূলের দুর্দিনে যারা পাশে ছিলেন, তাঁদের একাংশের এই ধরনের দলবদল বা সমঝোতার রাজনীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছেন কুণাল ঘোষের মতো দলের কড়া সমালোচকরা। এর ফলে আসন্ন পুরভোট ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও দ্বন্দ্ব যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।