পুজো শুরুর আগেই খাস কলকাতায় বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ! বড় নাশকতার ছক বানচাল

দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে খাস কলকাতার বুকে এক বিশাল বেআইনি অস্ত্র কারখানার সন্ধান মিলেছে। গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বেঙ্গল এসটিএফ যৌথভাবে হানা দেয় বন্দর এলাকার নাদিয়াল থানা অঞ্চলের আয়ুবনগর এলাকায়। একটি সাধারণ আবাসিক বাড়ির ভেতরে অত্যন্ত গোপনে এই অস্ত্র কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে শহরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে এসটিএফের একটি বিশেষ দল নাদিয়ালের ওই নির্দিষ্ট বাড়িতে আকস্মিক হানা দেয়। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিতে সক্ষম হয় অভিযুক্ত অস্ত্র কারবারিরা। তা সত্ত্বেও, অভিযুক্তদের আসল পরিচয় এবং তাদের গোপন নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এই আস্তানা থেকে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে চারটি সচল আগ্নেয়াস্ত্র এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে।
কীভাবে সামনে এল এই বিপজ্জনক চক্র? গত কিছুদিন ধরেই কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সমস্ত ঘটনার গভীরে পৌঁছতে এবং অস্ত্র পাচারের মূল উৎস খুঁজে বের করতে বিশেষ তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। গোয়েন্দারা নানা সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানতে পারেন যে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই সমস্ত অবৈধ অস্ত্র কোথাও না কোথাও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে তৈরি করা হচ্ছে।
অবশেষে গোপন খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে নাদিয়ালের আয়ুব নগরের ওই বাড়িতে অভিযান চালায় এসটিএফ। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক এই বিষয়ে জানান যে, অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতারে এবং অস্ত্র চক্রের মূল শেকড় পর্যন্ত পৌঁছতে গোটা এলাকায় জোরদার তল্লাশি ও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পুজো শুরুর ঠিক আগে খাস কলকাতায় এই ধরনের অস্ত্র কারখানার সন্ধান মেলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ও দ্রুত পদক্ষেপে একটি বড় ধরনের নাশকতার ছক সফলভাবে বানচাল করা সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।