দিনে ক’ঘণ্টা টিভি দেখলেই ঘনাতে পারে বিপদ? হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে এখনই সাবধান হন!

সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে কিংবা ছুটির দিনে বিনোদনের খোরাক হিসেবে টেলিভিশনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া আমাদের অনেকেরই নিয়মিত অভ্যাসের অংশ। কিন্তু এই আরামদায়ক বিনোদনই যে ধীরে ধীরে ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের বিপদ, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক বেশ কিছু স্বাস্থ্য গবেষণার তথ্য বলছে, একটানা দীর্ঘক্ষণ টিভির সামনে বসে থাকার অভ্যাস সরাসরি প্রভাব ফেলছে আমাদের হৃদযন্ত্রের ওপর।বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রকম শারীরিক নড়াচড়া ছাড়া বা বিরতি না নিয়ে টানা চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে টেলিভিশন দেখলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অফিসের ডেস্কে একটানা কাজ করার চেয়েও অলসভাবে টিভির সামনে সময় কাটানো হৃদযন্ত্রের জন্য বেশি ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।কেন বাড়ে এই ঝুঁকি?দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে টিভি দেখার সময় আমাদের শরীরের পেশিগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পাশাপাশি শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে গিয়ে খারাপ কোলেস্টেরলের প্রভাব বাড়ে, যা রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি করে। এই দীর্ঘমেয়াদী নিষ্ক্রিয়তা উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো সমস্যাগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করে, যা পরোক্ষভাবে হৃদরোগের পথ প্রশস্ত করে।সুরক্ষায় করণীয় কী?চিকিৎসকরা বিনোদন উপভোগের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন: একটানা বসে না থেকে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অন্তর আসন ছেড়ে উঠে একটু হেঁটে নিন।প্রতিদিনের রুটিনে অন্তত কিছুটা সময় শারীরিক পরিশ্রম বা হালকা ব্যায়ামের জন্য রাখুন।একটানা ওয়েব সিরিজ বা পছন্দের অনুষ্ঠান দেখার অভ্যাস পরিহার করে ছোট ছোট বিরতি নিন।নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে বিনোদনের পাশাপাশি সচেতনতাও সমান জরুরি। তাই সময় এসেছে অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে নিজের অমূল্য জীবনকে নিরাপদ রাখার।