যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞায় সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা! বিকল্প ময়দান নিয়ে যে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলল মামলাকারী, জানলে চমকে উঠবেন!

জাতীয় রাজধানীতে আন্দোলন ও প্রতিবাদের মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। দিল্লি পুলিশের তরফে ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-কে বিক্ষোভস্থল বা ধর্না প্রদর্শনের তালিকা থেকে পাকাপাকিভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার মামলা গড়াল সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে (Supreme Court)। যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লি পুলিশের বাতলে দেওয়া বিকল্প তিনটি প্রতিবাদস্থলের অবস্থান এবং তার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা বা পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।

যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা ও পটভূমি:
দীর্ঘ দশক ধরে দিল্লির যন্তর মন্তর মানেই ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মূল প্রাণকেন্দ্র। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত বছরগুলোতে বিরোধী দলগুলির বড় বড় বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে এই চত্বর। সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতেও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এই চঞ্চল চত্বর। ঠিক তার পরেই দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে ‘ডিনোটিফাই’ (De-notify) করে। পুলিশের নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়, এখন থেকে রাজধানীর রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড—এই তিনটি নির্দিষ্ট স্থানেই কেবল বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা যাবে।

সুপ্রিম কোর্টে কী বলা হয়েছে অভিযোগে?
দিল্লি পুলিশের এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র আইনি বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে দায়ের করা পিটিশনে বেশ কিছু বিস্ফোরক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে:

আদালতের পূর্ব নির্দেশ: আবেদনকারীর পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এর আগে দেশের সর্বোচ্চ আদালুই যন্তর-মন্তরকে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের জন্য একটি বৈধ ও নির্ধারিত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

বিকল্প স্থানের অনুপযুক্ততা: নতুন যে তিনটি স্থানের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রামলীলা ময়দান নিয়ে অতীতেও আদালতের কিছু সংশয় ও পর্যবেক্ষণ ছিল।

আবর্জনার স্তূপ ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি: আবেদনে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তোলা হয়েছে বিকল্প স্থানগুলির পরিবেশ ও অবস্থান নিয়ে। মামলাকারীর দাবি, প্রস্তাবিত নতুন বিক্ষোভস্থলগুলির (বিশেষ করে বুরারি এবং সিবিডি গ্রাউন্ডের একাংশ) অবস্থান শহরের প্রধান ল্যান্ডফিল সাইট বা আবর্জনা ফেলার স্তূপের অত্যন্ত কাছাকাছি। ফলে এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও জনবসতি থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের জমায়েত বা গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনা করা কতটা সুরক্ষিত ও যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

সংসদের কোলাহলপূর্ণ এলাকা থেকে প্রতিবাদ আন্দোলনকে অনেক দূরে সরিয়ে দেওয়ার এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজ।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *