চলন্ত ট্রেন দাউদাউ করে জ্বলছে! মাদ্রিদগামী হাই-স্পিড এভিই ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৮৩ জন!

চলন্ত হাই-স্পিড ট্রেনে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন! মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের পিছনের ইঞ্জিন দাউদাউ করে জ্বলে উঠলে চরম আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। স্পেনের মাদ্রিদ থেকে ফিগুয়েরেসগামী ‘রেনফে’ (Renfe)-র একটি দ্রুতগামী ‘এভিই’ (AVE) হাই-স্পিড ট্রেনে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৮৩ জন যাত্রী। বড়সড় কোনো প্রাণহানির খবর না মিললেও এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত রেল রুটে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন বিপর্যয়।
কীভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা?
স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ স্পেনের জারাগোজা প্রদেশের রিকলার কাছে হঠাৎই ওই হাই-স্পিড ট্রেনের পিছনের ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পাওয়ার কারটি পুড়ে ছাই হয়ে যেতে শুরু করে এবং কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। আগুনের তীব্র শিখা ট্রেনের সবচেয়ে কাছের যাত্রীবাহী কামরাটিতেও আংশিক ক্ষতি করে।
তবে চালক ও রেল কর্মীদের চরম তৎপরতা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার কারণে ট্রেনের ভেতরে থাকা ২৮৩ জন যাত্রীর সবাইকে দ্রুত এবং নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়। ঘন ধোঁয়ার কারণে মাথা ঘোরার সামান্য সমস্যা দেখা দেওয়ায় মাত্র এক জন মহিলা এবং এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়। এরপর যাত্রীরা নিজেরাই একটি মানব শৃঙ্খল (Human Chain) তৈরি করে পুড়ে যাওয়া ট্রেনের ভিতর থেকে নিজেদের সমস্ত লাগেজ নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন। খবর পেয়ে জারাগোজা প্রাদেশিক কাউন্সিলের দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তছনছ ট্রেন চলাচল ও হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তি:
স্পেনের জাতীয় ছুটির দিন (‘পুয়েন্তে দেল পিলার’) কাটিয়ে সাধারণ মানুষ যখন ঘরে ফিরছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই দুর্ঘটনা ঘটায় চরম বিপাকে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে মাদ্রিদ-বার্সেলোনা সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাই-স্পিড রেল রুটটি উভয় দিকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ট্রেন চলাচল পুরোপুরি থমকে থাকার পর, রাত সাড়ে আটটা নাগাদ একটিমাত্র ট্র্যাকে আংশিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
রেল সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনার ফলে অন্তত ৩৩টি ট্রেন সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। কেবল ‘রেনফে’-রই প্রায় ১২ হাজার ৯৭৯ জন যাত্রী মাঝপথে আটকে পড়েন। এছাড়া প্রতিযোগী সংস্থা ‘ইরিয়ো’ (Iryo) এবং ‘উইগো’ (Ouigo)-র পরিষেবা মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারে গিয়ে ঠেকে। গুয়াদালাহারা, কালাতায়ুদ, জারাগোজা এবং লেইদার মতো স্টেশনগুলিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পরবর্তীতে বিকল্প বাস ও ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে প্রশাসন।
তদন্তে রেল কর্তৃপক্ষ:
কাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা ‘আদিফ’ (Adif) ইতিমধ্যে ওভারহেড তার এবং রেল ট্র্যাকের ক্ষয়ক্ষতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ‘সিরিজ ১০০’ ট্রেনটিকে সরিয়ে নিয়ে ট্র্যাক মেরামতের কাজ চলায় মঙ্গলবারও স্বাভাবিকের তুলনায় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব ঘটে। ট্রেনের পিছনের ইঞ্জিনে ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে ‘রেনফে’। এদিকে এই নজিরবিহীন হয়রানির শিকার হওয়া যাত্রীদের টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত অথবা বিনা খরচে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট রেল সংস্থাটি।