বিক্ষোভে যোগ দিয়েই বিপাকে আমির খানের ভাগ্নে! ওিসি (OCI) কার্ডের গেরোয় কি দেশ ছাড়তে হবে ইমরান খানকে?

দেশজুড়ে চলা ভোটচুরি বিরোধী আন্দোলন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর সেই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েই বড় আইনি বিপাকে পড়লেন বলিউড অভিনেতা তথা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খান (Imran Khan)। প্রতিবাদী সমাবেশে যোগ দেওয়ার জেরে তাঁর ও বান্ধবী লেখা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ। শুধু তাই নয়, অভিনেতা OCI কার্ড হোল্ডার হওয়ার কারণে তাঁকে দেশ থেকে বহিস্কার করার জোরালো দাবি তুলেছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কীর্তি সোমাইয়া।
ঠিক কী ঘটেছিল মুম্বইয়ে?শনিবার মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমর্থনে আয়োজিত প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন অভিনেতা ইমরান খান। পুলিশ সেই বিক্ষোভস্থল থেকে ইমরান ও লেখা ওয়াশিংটন সহ চারশো জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করে। যদিও পরবর্তীতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় (নির্দেশ অমান্য, অনৈতিকভাবে বাধা দান এবং বেআইনি জমায়েত)-এর অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করে। আটক হওয়ার সময় পুলিশ ভ্যানে বসে হাসিমুখে ভিডিও রেকর্ড করার সুবাদে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক ভাইরাল হয়।
কী এই OCI কার্ড এবং কেন বাড়ছে বিতর্ক?আমেরিকার উইসকনসিনে জন্ম নেওয়া ইমরান খান একজন ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’ বা OCI কার্ড হোল্ডার। ২০০৫ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই কার্ডের প্রচলন করা হয়। এর মাধ্যমে ভারতে আজীবন যাতায়াত, সম্পত্তি কেনা বা কাজের সুবিধা মিললেও, ভারতের নাগরিকত্ব কিংবা সরাসরি ভোটদান ও রাজনৈতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো আইনি অধিকার তাঁদের নেই।
এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই বিজেপি নেতা কীর্তি সোমাইয়া প্রশ্ন তুলেছেন যে, একজন বিদেশি নাগরিক হয়ে কীভাবে ইমরান খান দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনে প্রকাশ্যে অংশ নেন। তিনি অবিলম্বে ইমরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, OCI সংক্রান্ত নিয়মে সরাসরি প্রতিবাদের অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ না হলেও, বিদেশি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত নাগরিকত্ব আইনের ৭-ডি ধারা অনুযায়ী দেশের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার বিষয় জড়িত না থাকলে কেবল প্রতিবাদে সামিল হওয়ার অপরাধে কাউকে সরাসরি দেশছাড়া করার আইনি যুক্তি সাধারণত থাকে না। তা সত্ত্বেও একজন প্রথমসারির বলিউড অভিনেতার এমন রাজনৈতিক বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়া এবং আইনি জাঁতাকলে পড়ার ঘটনা এই মুহূর্তে বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।