“মাইকেল ব্লুমবার্গ নিখুঁত সময়ে সঠিক দেশকে বেছে নিয়েছেন!” নয়াদিল্লির বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের হুঙ্কার!

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পরিবর্তিত অর্থনীতির নতুন রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সম্মানজনক ‘ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরাম’-এ (Bloomberg New Economy Forum) বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একঝাঁক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। ফোরামের অষ্টম আসরে ‘ক্ষমতায়নের জন্য শক্তি’ (Power to Empower)-র যুগান্তকারী দর্শন পেশ করার পাশাপাশি একবিংশ শতাব্দীর পরিবর্তিত ক্ষমতা এবং ভারতের ঐতিহাসিক ডিজিটাল বিপ্লবের চিত্র বিশ্বমঞ্চে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
একবিংশ শতাব্দীতে ক্ষমতার নতুন সংজ্ঞা:
ব্লুমবার্গের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ব্লুমবার্গকে ভারতে এমন একটি বিশ্বমানের ইভেন্ট আয়োজনের জন্য সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “মি. ব্লুমবার্গ অত্যন্ত সঠিক সময়ে সঠিক স্থানটিই বেছে নিয়েছেন।”
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মোদি বলেন, “প্রতিটি যুগের নিজস্ব ক্ষমতার উৎস থাকে। কিন্তু এই তৃতীয় দশকে এক বিরাট পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। আজ তথ্যই ক্ষমতা (Data is Power), জ্ঞানই ক্ষমতা (Knowledge is Power) এবং নতুন উদ্ভাবনই ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি (Innovation is Power)।”
তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত অন্যকে নিয়ন্ত্রণ বা শাসন করার শক্তিতে বিশ্বাস করে না। ভারতের মূল দর্শন হলো মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করা।
ভারতের প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও ডিজিটাল শক্তি:
ভারতকে ‘গণতন্ত্রের মা’ (Mother of Democracy) হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন দেশের যোগাযোগের বিরাট পরিধি—
ভারতে বর্তমানে ১০০টিরও বেশি ভাষা প্রচলিত রয়েছে।
প্রায় ৮০,০০০ রেজিস্টার্ড খবরের কাগজ ও পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
১,০০০-এরও বেশি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কেবল ভারতেই ৫০ কোটির বেশি ইউটিউব এবং ৫০ কোটির বেশি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রয়েছেন।
ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI)-এর সাফল্য তুলে ধরে মোদি বিদেশি অতিথিদের এটি ব্যবহার করে দেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “ভারতে এক ফুটপাথের হকার এবং একটি বিলাসবহুল গাড়ির শোরুমের ব্যবসার আকার আলাদা হলেও, দুজনেই একই ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। এটাই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির আসল জোর।”
স্টার্টআপ, উদ্ভাবন ও সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন:
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের আগে ভারতে মাত্র কয়েকশো স্টার্টআপ ছিল; আজ সেই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২.৫ লাখের বেশি! এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক স্টার্টআপ আসছে দেশের ছোট ছোট শহর থেকে এবং ৪৫ শতাংশ স্টার্টআপে রয়েছেন নারী পরিচালক বা অংশীদার।
প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কীভাবে দুর্নীতির অবসান ঘটেছে তা জানিয়ে মোদি বলেন, ডিবিটি (DBT) বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদান পৌঁছানোর ব্যবস্থার ফলে সরকারি সহায়তার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে। এছাড়া, ভারতের পরিবেশবান্ধব শক্তির যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০১৪ সালের ৭৫ গিগাওয়াট পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি ক্ষমতা আজ বেড়ে ৩০০ গিগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ভারতের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা (যেমন কোউইন প্ল্যাটফর্ম) বিশ্ব মানবতার স্বার্থে অন্য দেশগুলির সঙ্গেও নিঃস্বার্থভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।