‘জল যুদ্ধ’ শুরু! সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত থাকায় চরম খরা ও জলের সঙ্কটের মুখে পাকিস্তান!

ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই ভয়াবহ জলসঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান। ২০২৬-২৭ সালের আসন্ন খরিফ মরশুমে সিন্ধু অববাহিকায় জলের প্রবাহে প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খোদ পাকিস্তানের একটি সরকারি বিবৃতি।

ইসলামাবাদের প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামগ্রিক ব্যবস্থায় পাঞ্জাব ও সিন্ধু—উভয় প্রদেশের ক্ষেত্রেই জলের ঘাটতির পরিমাণ ২২ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। এমনকি চলতি ২০২৬ সালের খরিফ মরশুমেও পাকিস্তানকে সমপরিমাণ জলের ঘাটতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সেচ-নির্ভর কৃষিকাজের সিংহভাগই মূলত পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট ৯০ শতাংশ কৃষি উৎপাদন এই সিন্ধু অববাহিকার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমেই হয়ে থাকে। ফলে জলের এই বিপুল ঘাটতি পাকিস্তানের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরেই ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ (Indus Waters Treaty) স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, “জল ও রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না”, এবং পাকিস্তানকে আগে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তারপর থেকেই আন্তর্জাতিক একাধিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে “জল যুদ্ধ”-র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ইসলামাবাদ। পাক নথিপত্রে জলাধারের জলের স্তর কমে যাওয়া এবং বিশেষ করে ঝিলাম ও চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীতে জলের প্রবাহ হ্রাস পাওয়া নিয়ে বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাক আধিকারিকদের দাবি, চন্দ্রভাগা নদীতে ভারতের কম জল সরবরাহের ফলেই এই মারাত্মক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত বছরও পহেলগাঁও হামলার পর চুক্তি স্থগিত হওয়ায় সেচ সঙ্কটের আশঙ্কা করেছিল পাকিস্তান। যদিও সেবার হিমালয়ের উচ্চতর অঞ্চলে বন্যা ও বরফ গলার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাক কর্তৃপক্ষ যে এক অত্যন্ত কঠিন ও সঙ্কটজনক মরশুমের মুখোমুখি হতে চলেছে, তা সরকারি নথিপত্র থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *