যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই চরম নাটক! ব্যারিকেড টপকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে উত্তাল দিল্লি, ফের আটক সিজেপি নেতারা!

রাজধানীর বুকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের নিয়মে কড়াকড়ি আসতেই শুরু হলো চরম সংঘাত। যন্তর মন্তরে সমস্ত ধরনের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ২৪ ঘন্টাও কাটেনি, তার আগেই নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে মঙ্গলবার ভোরে যন্তর মন্তরে হানা দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আর এর জেরে ফের একবার দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন সংগঠনের শীর্ষনেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা সহ একদল স্বেচ্ছাসেবক।

এ দিন সকালে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, লোহার গেট ও পুলিশি ব্যারিকেড টপকে ককরোচ পার্টির সদস্যরা যন্তর মন্তরের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখানে মোতায়েন পুলিশ কর্মীরা বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিও বেধে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ জোর করে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে অভিজিৎ দীপক লিখেছেন, “আপনারা কোনো প্রতিরোধকেই বাতিল বলে ঘোষণা করতে পারেন না।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা ও পটভূমি:
উল্লেখ্য, মধ্য দিল্লির ঐতিহাসিক ‘যন্তর মন্তর’ চত্বর দীর্ঘদিন ধরেই বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে আর যন্তর মন্তরে কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। জাতীয় রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির জন্য নতুন তিনটি স্থান নির্দিষ্ট করেছে প্রশাসন। এই নতুন স্থানগুলি হলো—

রামলীলা ময়দান

বুরারি ময়দান

পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ধারাবাহিক বিক্ষোভের পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই কড়া সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। গত ১০ অক্টোবর থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে ওই দিনই দিল্লি বিমানবন্দরে নামার সময় সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীজুড়ে চলা এই রাজনৈতিক সংঘাত এবং পুলিশি ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখী।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *