‘ডাবল নয়, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন দিন!’ কলকাতা পুরসভা দখল করতে সরাসরি জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শহরবাসীর কাছে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের পর এবার পুরসভা নির্বাচনেও ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) পক্ষে জোরালো জনসমর্থন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন তিনি। কলকাতার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রসঙ্গ টেনে পুরবোর্ড ও রাজ্য সরকারকে একসঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য শহরবাসীর প্রতি আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিন নিজের চেনা মেজাজ ও ঢঙেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “আসুন সবাই সোজা রাস্তায় আসুন। একটাই রাস্তা। কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের আবেদন করব। ডাবল ইঞ্জিন হয়েছে। আপনাদের কাছে চাইছি ট্রিপল ইঞ্জিন দেবেন। হাওড়া-কলকাতা দেবেন তো? দেবেন, দেবেন, দেবেন, দেবেন!”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে একটা পারসেপশন তৈরি করে রাখা হয়েছিল বিজেপি শুধু হিন্দুদের ভোটই পায়। হ্যাঁ, কিছুটা হলেও এটা সত্যি। কিন্তু একটা শ্রেণিকে বোঝানো হয়েছিল বিজেপি ক্ষমতায় এলে আসলে তাদের ক্ষতি হবে। তবে সেই পরিস্থিতির এখন আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তারাও বুঝিয়ে দিয়েছে, সব শ্রেণির মানুষের ভোটেই বিজেপি জিতেছে।” তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করে শুভেন্দু যোগ করেন, “আজ তৃণমূল কয়েক টুকরো হয়ে গিয়েছে, জামানত জব্দ হয়ে গেছে। মূল স্রোতের বাইরে যারা থাকবে, তারা যে হারিয়ে যাবে, তা তারা বুঝতে পেরেছে। বিজেপি আমাদের দল, মোদিজি আমাদের নেতা। আমাদের সংকল্পপত্র অনুযায়ীই আমরা কাজ করে চলেছি।”

কলকাতাবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য সরকার যাতে যৌথভাবে এবং একযোগে কাজ করতে পারে, তার জন্য গণদেবতার আশীর্বাদ একান্ত প্রয়োজন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কলকাতার পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে হাওয়া তোলার এবং জনসমর্থন আদায়ের মাস্টারস্ট্রোক দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা ভোটের পর কলকাতা পুরসভার দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

শহরের নাগরিক পরিষেবা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক রূপান্তর আগামী দিনে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হতে চলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কলকাতার সচেতন নাগরিকরা পুরসভা পরিচালনার ভার কার হাতে তুলে দেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *