বিগ বসের ঘরে সৃজলার দ্বৈত রূপ! সোনামণির বিস্ফোরক অভিযোগে রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্কে ভাঙন, অঝোরে কান্না!

বিগ বসের (Bigg Boss) অন্দরে সমীকরণ বদলাতে এক মুহূর্তও সময় লাগে না। খেলার চাল বদলানোর সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিমুহূর্তে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বিতর্ক। এবার ঘরের অন্দরে প্রতিযোগী সৃজলা গুহর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত রূপ’ বা দ্বিচারিতার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সোনামণি। আর সেই বিতর্কের জেরে সরাসরি ধাক্কা খেল রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিজেদের মধ্যে তুমুল অশান্তিতে জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় নন্দিনীকে। একইসঙ্গে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথেই ঘর ছাড়তে হলো ঝিলম গুপ্তকে। সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিগ বসের ঘর।
সোনামণির বিস্ফোরক অভিযোগ ও সৃজলার সাফাই:
মূল ঘটনার সূত্রপাত সোনামণির অভিযোগে। সোনামণির দাবি, সৃজলা তাঁর বন্ধুদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাঁরা নন্দিনী এবং রাজবীরের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁরা যেন সৃজলার সঙ্গেও সম্পর্ক না রাখেন। বিশেষ করে নন্দিনীর সঙ্গে মেলামেশায় কড়া নিষেধ ছিল। অথচ বন্ধুদের কড়া বারণ করলেও, সৃজলা নিজেই নাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা নন্দিনীর সঙ্গে গল্প করছেন। সোনামণির এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন নিরঞ্জনও। যদিও এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান সৃজলা। তাঁর সাফ কথা, তিনি কথা বললেও রাজবীর বা নন্দিনী—কাউকেই তাঁর পছন্দ নয়। আর এই নিয়েই সোনামণি ও সৃজলার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
রাজবীরের অতীত মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক:
এরপর আসল গোলমালের সূত্রপাত হয় ডাইনিং টেবিলের কাছে। সেখানে হঠাৎই সৃজলা দাবি করেন, অতীতে রাজবীর সরাসরি তাঁকে পছন্দ করার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নাকি মুখের ওপর ‘না’ করে দিয়েছিলেন। এই কথা শোনা মাত্রই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন রাজবীর। তিনি স্পষ্ট জানান, সৃজলা কখনওই তাঁকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বলেছিলেন, কোনো সম্পর্কে জড়ানোর আগে তাঁর একটু সময় লাগে। উল্লেখ্য, এই পুরো ঘটনাটিই ঘটেছিল রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্কে আসার আগের সময়ে।
কান্নায় ভাঙলেন নন্দিনী:
পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন নন্দিনী ও সৃজলার আলোচনার মাঝে ‘দাদার দরবার’-এর প্রসঙ্গ ওঠে। সৃজলা অভিযোগ করেন, দাদার দরবারের সাজ দেখে রাজবীর নাকি তাঁকে বলেছিলেন, “মেকআপ ছাড়া তোমাকে বেশি সুন্দর লাগে!” সৃজলার মেকআপ ঠিকঠাক ছিল না বলেই রাজবীর ওই মন্তব্য করেছিলেন। সৃজলার প্রশ্ন, এই কথা বলার অধিকার রাজবীরকে কে দিয়েছে? পরিস্থিতি সামাল দিতে নন্দিনী জানান, তিনি এবং রাজবীর দু’জনে মিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলেই রাজবীর ওই কথাটি বলেছিলেন।
কিন্তু এই সামান্য কথা কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যে বড় আকার ধারণ করে। রাজবীর ও নন্দিনীর মধ্যে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। একে অপরের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। শেষমেশ নিজেদের মধ্যের এই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নন্দিনী।
মাঝপথে বিদায় ঝিলমের:
ঘরের এই চরম উত্তেজনার মাঝেই আসে এক মন খারাপ করা খবর। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথেই বিগ বসের ঘর থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হলো ঝিলম গুপ্তকে। চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শেই তাঁকে শো থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতারা। ঝিলমের এই আচমকা বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘরের অন্য প্রতিযোগীরাও। বিগ বসের অন্দরে এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দর্শকরা।