নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তুলকালাম! বিরোধীদের মহামিছিল সুপ্রিম কোর্টে ঢুকতেই চরম উত্তাপ দিল্লিতে

দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন এবার চূড়ান্ত রূপ নিল। তথাকথিত ‘ভোট চুরি’ ও কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে এক মেগা প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধান বিচারপতির পরামর্শ মেনেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দরজায় আনুষ্ঠানিক পিটিশন দাখিল করতে বিরোধীদের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সোমবার জাতীয় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু হওয়া এই মহামিছিলে তেরঙ্গা হাতে কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় আছড়ে পড়ে। মান্ডি হাউস থেকে বারাখাম্বা রোড হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোতে থাকা এই বিশাল পদযাত্রায় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সামনে থেকে এই জনস্রোতকে নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। একাধিক স্তরের কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড থাকা সত্ত্বেও বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি দল শীর্ষ আদালত চত্বরে পৌঁছে তাঁদের অভিযোগ ও আইনি নথি পেশ করার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
মিছিলের আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ মহলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে সুর চড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা করতে এই আইনি লড়াই এখন অপরিহার্য। অন্যদিকে, বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে পাল্টা রাজনৈতিক নাটকবাজির অভিযোগ তুলেছে শাসকদল।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বিরোধীদের এই প্রতিবাদী পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে লড়াই কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আঙিনাতেও তা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের চেহারা নিতে চলেছে।