শুধু গলা সাধলেই গান হয় না! সুর ও স্বর ধরে রাখতে কোন জাদুকরী কৌশল মানেন সঙ্গীতশিল্পী অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

দুর্গাপুজোর মরসুম মানেই আলো, আনন্দ আর মণ্ডপে মণ্ডপে গানের জলসা। উৎসবের এই দিনগুলিতে একের পর এক লাইভ পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘ সময় ধরে গান গাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বহু শিল্পী। কিন্তু একটানা গান গেয়েও কীভাবে সুরেলা ও সতেজ রাখা যায় নিজের কণ্ঠ? গলার স্বর ভালো রাখার আসল চাবিকাঠি ঠিক কোথায়? উৎসবের আবহে এক সাক্ষাৎকারে সেই গোপন রহস্য এবং জীবনশৈলীর জরুরি পাঠ তুলে ধরলেন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় ও সেমি-ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতশিল্পী অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভক্তিগীতি, আধুনিক গান ও লোকগীতির সুমধুর পরিবেশনার জন্য পরিচিত এই শিল্পীর মতে, একজন শিল্পীর কণ্ঠস্বর পুরোপুরি নির্ভর করে তাঁর সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের ওপর। গান নিছক কোনো বাহ্যিক অভ্যাস নয়, এটি একজন মানুষের জীবনশৈলী বা লাইফস্টাইলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। অনিন্দিতা জানান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ ঠিক না থাকলে যত ভালো সুরই থাকুক না কেন, গলায় স্থায়িত্ব আনা অসম্ভব।
কণ্ঠের সুর ধরে রাখতে অনিন্দিতার বিশেষ পরামর্শ:
-
নিয়মিত প্রাণায়াম অপরিহার্য: গলার মাংসপেশি সচল রাখতে এবং ফুসফুসের ধারণক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন নিয়ম করে প্রাণায়াম বা শ্বাসের ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। এটি দীর্ঘক্ষণ একটানা গান গাওয়ার দম জোগায়।
-
শ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল: গাওয়ার সময় কীভাবে শ্বাস টেনে ধরে রাখতে হবে এবং কীভাবে তা ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে, তার সঠিক নিয়ন্ত্রণের ওপরেই গানের মসৃণতা নির্ভর করে।
-
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও খাদ্যাভ্যাস: উৎসবের উন্মাদনায় অনেক সময় রাত জাগা ও অনিয়ম হয়। তবে গলার ক্ষতি এড়াতে পর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলা এবং পরিমিত জীবনযাপন বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পুজোর আগে যারা বিভিন্ন মঞ্চে গান গাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা গানের জগতে নতুন পা রেখেছেন, তাঁদের জন্য এই টিপস অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে চলেছে। শিল্পীর বার্তা পরিষ্কার—কেবল গলা সেধে নয়, সঠিক শ্বাসচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চললেই সুরের জাদু দীর্ঘস্থায়ী হয়।