এশিয়াডে সোনা এনেও মেলেনি একটা শুভেচ্ছাবার্তাও! অভিমান চেপে বাংলায় ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ পিঙ্কি রায়ের, শোরগোল রাজ্যে

আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশকে গৌরবান্বিত করে সোনা জিতেও নিজের রাজ্যেই ব্রাত্য রয়ে গেলেন বাংলার কৃতী কবাডি তারকা পিঙ্কি রায়। ক্রিকেট তারকা রিচা ঘোষদের সাফল্যে যখন রাজ্যজুড়ে অভিনন্দনের জোয়ার এবং সরকারি প্রশংসার বন্যা, তখন দেশের জার্সিতে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি সাধারণ শুভেচ্ছাবার্তাও পেলেন না ভারতীয় মহিলা কবাডি দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার। প্রশাসনের এহেন চরম উদাসীনতায় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।

নদিয়ার রানাঘাটের মেয়ে পিঙ্কি রায় নিজের অদম্য জেদ ও লড়াইয়ের জোরে ভারতীয় জাতীয় কবাডি দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ফাইনালে ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ভারতীয় মহিলা দল যখন দেশকে সোনা উপহার দেয়, তখন সেই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন পিঙ্কি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের পরও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কোনও বার্তা বা স্বীকৃতি তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক ব্যস্ততার অজুহাতে কি হারিয়ে গেল এক সোনাজয়ী অ্যাথলিটের সম্মান? এই প্রশ্নই এখন ক্রীড়ামহলে ঘোরাফেরা করছে।

কর্মসূত্রে বর্তমানে দক্ষিণ-মধ্য রেলের কর্মী হিসেবে হায়দরাবাদে কর্মরত পিঙ্কি সম্প্রতি নিজের রাজ্যে ফিরলেও সরকারি মহলে দেখা মেলেনি কোনও উৎসাহের। অথচ রাজ্যের অন্য ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে প্রায়শই সংবর্ধনা ও পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়। নিজের রাজ্যের এই শীতল আচরণে স্বাভাবিকভাবেই ব্যথিত ও অভিমানী এই ‘সোনার মেয়ে’। তবে পাহাড়প্রমাণ অভিমান বুকে চেপেও পিঙ্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজের মাতৃভূমি বাংলার প্রতি তাঁর টান আজীবন থাকবে এবং সুযোগ পেলে তিনি স্থায়ীভাবে এই বাংলাতেই ফিরে আসতে চান। একজন বিশ্বজয়ী অ্যাথলিটের প্রতি প্রশাসনের এমন দ্বিচারিতা বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো ও মানসিকতা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *