এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে ‘ইন্ডিয়া’র মহামিছিল! সামনে রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-নেহা, সিইসি-র ইস্তফা দাবিতে তোলপাড় দিল্লি

এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক মিছিল ছিল না, রূপ নিয়েছিল এক নজিরবিহীন মহামিছিলে! পাখির চোখে তাকালে দিল্লির রাজপথ জুড়ে কেবল অগণিত মানুষের মাথা আর বাতাসে উড়তে থাকা জাতীয় পতাকার ঢেউ। প্রধান বিচারপতির পরামর্শ মেনে নির্বাচন কমিশন ও তথাকথিত ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন জমা দিতে সোমবার জাতীয় রাজধানীতে আছড়ে পড়ল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের বিশাল প্রতিবাদী জনস্রোত।
সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে আয়োজিত এই মেগা মিছিলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে। তাঁদের সঙ্গেই মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে পা মিলিয়ে নজর কাড়েন আইসা (AISA) নেত্রী নেহা বোরা। দিল্লির মান্ডি হাউস থেকে বারাখাম্বা রোড—রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাজপথগুলি বিরোধী শিবিরের এই পদযাত্রায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে কংগ্রেস সদর দফতরে এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সাংবাদিক বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। সেখান থেকে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “ইস্তফা দিন। সবটা সামনে আনুন। আপনি ভুল করেছেন ঠিকই, কিন্তু এই ষড়যন্ত্রের মূল মাথা আপনি নন।” রাহুল আরও বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “আমরা জানি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। আমি পরিষ্কার ভাষায় তাঁকে বলে দিচ্ছি, সিইসি পদে আপনার টেকা অসম্ভব।”
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিরোধীরা যে শীর্ষ আদালতের দরজায় আইনি লড়াই লড়তে প্রস্তুত, সোমবারের এই জমায়েত তারই এক বিরাট শক্তি প্রদর্শন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ব্যারিকেড ও কড়া পুলিশি নিরাপত্তা সত্ত্বেও দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের এই জনসমুদ্র জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।