“ওয়াই ক্যাটাগরি নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হলো কেন?” হাই কোর্টে বিস্ফোরক সওয়াল, আইনি লড়াইয়ে কুণাল ঘোষ

রাজ্য রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্যকর মোড়! একের পর এক মারাত্মক হামলার মুখে পড়ে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও জীবনশঙ্কা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন শাসকদলের পরিচিত মুখ কুণাল ঘোষ। তাঁর উপর পরপর দু’বার সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি ছিল হাইকোর্টে। আর শুনানির শুরুতেই রাজ্যের পুলিশ কমিশনারকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা কঠোরহস্তে নিশ্চিত করতে হবে। তবে মামলার এখতিয়ার ও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের প্রসঙ্গ থাকায় পরবর্তী শুনানি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চেই স্থানান্তরিত হয়েছে।
আদালতে কী সওয়াল হলো?
এদিনের শুনানিতে বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পরপর দু’দিন এমন দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটে?
কুণাল ঘোষের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, একসময় যেখানে তাঁকে ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হতো, আজ তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি একজন প্রাক্তন বিধায়ক অন্য দলে যোগ দেওয়ার পর দেদার সশস্ত্র নিরাপত্তা বা গার্ড পেলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র দু’জন নিরাপত্তা রক্ষী দিয়ে এত বড় হুমকি সামলানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিবার ঘরের বাইরে কোথাও যেতে গেলেই তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রকাশ্যেই গাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে।
কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছিল হামলা?
সূত্রের খবর, কুণাল ঘোষের উপর সাম্প্রতিক সময়ে দু’বার বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমবার ঘটনাটি ঘটে হুগলির শ্রীরামপুরে। সেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি নির্ধারিত সভা ছিল, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কুণালের। অভিযোগ, সেই সভা চত্বরে রড, লাঠি, পাথর ও ইট নিয়ে তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়। এই পুরো হামলার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ করা হয়েছিল।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ফের ফুলবাগানে নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই আক্রমণের শিকার হন কুণাল ঘোষ। অভিযোগ ওঠে, ১৫ থেকে ২০টি বাইকে একদল দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি পিছন থেকে ধাওয়া করে পথ আটকে দাঁড় করায়। হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে রিভলভার এবং গাড়ির কাচ চুরমার করার জন্য বিশেষ হাতুড়ি পর্যন্ত ছিল! খাস কলকাতার বুকে দিনেদুপুরে এই ধরনের ফিল্মি কায়দায় বাইকবাহিনীর তাণ্ডব ও নিরাপত্তা বলয় ভেঙে হামলার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার, কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় কী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।