১৭ রাজ্যে পালিয়েও রক্ষা পেলেন না! ১৮ বছর ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া মাস্টারমাইন্ড প্রতারক অবশেষে শ্রীঘরে

ছাত্রছাত্রীদের বি.এড. এবং বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার জাল ডিগ্রি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। সেই অপরাধের জেরে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে দেশের ১৭টি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দিচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখতে বিভিন্ন কোচিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করে সাধারণ জীবনযাপনের ভান করতেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে জয়পুর রেঞ্জ পুলিশের একটি বিশেষ দলের হাতে ধরা পড়েছেন ৫৬ বছর বয়সি মোস্ট ওয়ান্টেড কল্যাণ সিং।
১৭ রাজ্য ঘুরে দেরাদুনে আস্তানা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের জালোর জেলার ভিনমল থানা এলাকার বোরতা গ্রামের বাসিন্দা কল্যাণ সিংয়ের বিরুদ্ধে সিকারের কোতোয়ালি থানাতেই ২৩টি গুরুতর মামলা ঝুলছিল। দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তাঁকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর গ্রেপ্তারি নিশ্চিত করতে ৩৫,০০০ টাকার নগদ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পুলিশ।
প্রতারণার জাল ছড়িয়ে গা ঢাকা দেওয়ার পর থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশের আলিগড়, হায়দ্রাবাদ, দিল্লি থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে পালিয়ে বেড়ান তিনি। এভাবে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে নিজের আয়ের পথ সচল রাখেন এবং পুলিশের হাত থেকে বেঁচে যান। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে একটি বাড়ি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন কল্যাণ সিং।
টেকনিশিয়ানের ছদ্মবেশে অভাবনীয় অপারেশন
কল্যাণ সিংকে পাকড়াও করতে গত কয়েকদিন ধরে পরিকল্পনা কষছিল জয়পুর রেঞ্জ সাইবার সেল এবং সিকার কোতোয়ালি পুলিশের একটি যৌথ দল। আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ দেরাদুনের প্রেম নগর এলাকার রাঘব বিহারের সি-১০৭ নম্বর বাড়িটির সন্ধান পায়। তবে বাড়ির বাইরে নেমপ্লেটে ‘ডিন’ (Dean) লেখা থাকায় পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
অভিযুক্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য এক দারুণ ফন্দি আঁটে পুলিশ। আশপাশের বাড়িগুলিতে এয়ারটেল ফাইবারের সংযোগ দেখতে পেয়ে পুলিশকর্মীরা একেবারে এয়ারটেল ফাইবার টেকনিশিয়ানের ছদ্মবেশে গিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। ভেতরে কল্যাণ সিংয়ের উপস্থিতি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে তাঁকে রাজস্থানের সিকারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ২৩টি মামলার যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দীর্ঘ ১৮ বছরের এই নাটকীয় পলাতক জীবন ও রোমহর্ষক গ্রেপ্তারি কাণ্ড এখন রীতিমতো রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।