পকেটে টান পড়তে চলেছে খুব শীঘ্রই! হু হু করে বাড়তে পারে জিনিসপত্রের দাম, আরবিআই-কে নিয়ে মারাত্মক সতর্কবার্তা

দেশে মূল্যবৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে দাবি করা হলো এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে। ‘সিস্টেমেটিক্স ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিজ’-এর একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে মূল্যবৃদ্ধির হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে (RBI) আগামী দিনে ফের সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে হবে।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভয়াবহ চিত্র ও আরবিআই-এর হিসাব
রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কাঁচামালের চড়া দাম এবং সাধারণ মানুষের ওপর খরচ বৃদ্ধির চাপ যেভাবে বাড়ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বর্তমান মূল্যায়নে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটছে না। আরবিআই মূল্যবৃদ্ধির এই ঝুঁকিকে কিছুটা কম করেই দেখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিজস্ব সমীক্ষাও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাধারণ মানুষের মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশা গড়ে ৯.১ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে, যা সাধারণ মূল্যবৃদ্ধির হারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। আরবিআই-এর ‘ইনফ্লেশন ডিফিউশন ইনডেক্স’ বা মূল্যবৃদ্ধি সূচকও দেখাচ্ছে যে, দেশের প্রায় সমস্তক্ষেত্রেই জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অর্থাৎ, মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এখন অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কোন কারণগুলি?
উৎপাদন খরচ ও কাঁচামাল: কোম্পানিগুলোর, বিশেষ করে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির খরচ রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে নন-ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলির কাঁচামালের খরচ বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

সরকারি ভর্তুকি ও আন্তর্জাতিক চাপ: খাদ্য, জ্বালানি ও সারে যে সমস্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং তেল কোম্পানিগুলির লোকসানের কারণে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব এতদিন সরাসরি বাজারে পড়েনি। তবে এই সরকারি সহায়তার হাতছানি কমতে শুরু করলেই আগামী মাসগুলিতে মূল্যবৃদ্ধি আরও দ্রুত গতিতে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুদের হার বৃদ্ধি ও শেয়ার বাজারে ধকলের আশঙ্কা
চলতি পরিস্থিতিতে আরবিআই সম্প্রতি রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে এইটুকু বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। রিয়েল ইন্টারেস্ট রেট বা প্রকৃত সুদের হার অন্তত ১ শতাংশে ফিরিয়ে আনতে গেলে রেপো রেট বর্তমান ৫.৫ শতাংশ থেকে আরও ১০০ থেকে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬.৫ থেকে ৭ শতাংশে নিয়ে যেতে হতে পারে।

রিপোর্টে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং সুদের হার বৃদ্ধি দেশের শেয়ার বাজারের জন্য জোড়া বিপদ ডেকে আনতে পারে। একদিকে চড়া সুদের জেরে ইক্যুইটি ভ্যালুয়েশন কমবে, অন্যদিকে কাঁচামাল ও ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বড় ধাক্কা খাবে কর্পোরেট সংস্থাগুলোর মুনাফা। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি রোধে আরবিআই পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *