‘মায়ের করবো স্বচ্ছতা সে স্বাগত!’ পুরসভার বিজ্ঞাপনে এ কী বাংলা? সোশাল মিডিয়ায় মারাত্মক ট্রোল, শেষে ডিলিট

‘মায়ের করবো স্বচ্ছতা সে স্বাগত!’—বিজ্ঞাপনের এই একটি লাইনকে কেন্দ্র করেই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া। দুর্গাপুজো উপলক্ষে কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে প্রকাশিত একটি পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক বিজ্ঞাপনে এই লাইনটি ব্যবহার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—শব্দগুলো যেভাবে পাশাপাশি বসানো হয়েছে, তা কি আদৌ অর্থবহ বা সঠিক বাংলা? নাকি সরকারি বিজ্ঞাপনেই প্রকাশ্যে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে গুরুচণ্ডালী ভাষা?

তীব্র কটাক্ষে রাজনীতিক থেকে তারকারা: বাংলা ও হিন্দির মিশ্রণে তৈরি এই অদ্ভুত বাক্যটি নজরে আসতেই কলকাতা পুরসভাকে একহাত নিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। এক্স (X) হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘এটা কী? এটা কি বাংলা? আপনারা মজা করছেন??? এই মুহূর্তে কলকাতা পুরসভার এত খারাপ অবস্থা যে বাংলাটাও ঠিকমতো লিখতে পারছে না।’

পিছিয়ে থাকেননি বিরোধী শিবিরের নেতারাও। বাম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, এটি কি সাধারণ ভাষা নাকি ‘হিন্দুত্ববাদী বাংলা’? অন্য এক বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘উফ কী ভাল লাগছে! এইবার পুরো নবরাত্রি ফিল হচ্ছে।’ অভিনেতা ঋদ্ধি সেনও খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, ‘বাংলা আউট, ভরসা ইন।’

বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি: পুরসভার এই বিজ্ঞাপন ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিজেপি শিবিরেই। পুরসভা ভোটের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘প্রশাসনের শীর্ষ পদে যাঁরা বসেছেন, তাঁদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। আধিকারিকদের হয়তো বাংলায় জ্ঞান সীমিত হতেই পারে, তবে এই কাজের দায়িত্ব তাঁদেরই দেওয়া উচিত যাঁরা বাংলা ভাষা ভালো বোঝেন।’

বিতর্কের মুখে পোস্ট মুছে বদল: চতুর্দিক থেকে ধেয়ে আসা তীব্র সমালোচনা ও ট্রোলের মুখে পড়ে অবশেষে বিজ্ঞাপনটি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য হয় কলকাতা পুরসভা। পরবর্তীতে নতুন একটি পোস্ট করে ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করে লেখা হয়—‘স্বচ্ছতার সঙ্গে মা-কে স্বাগত জানাই।’

উল্লেখ্য, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা দিতে গিয়ে পুরসভার এই বিভ্রাট এবারই প্রথম নয়। এর আগেও পুজোর প্রস্তুতি সংক্রান্ত বৈঠকে দশভুজার বদলে ১১ হাতের দুর্গার ছবি ব্যবহার করে বিতর্কের মুখে পড়েছিল প্রশাসন, যা পরে সংশোধন করা হয়েছিল। তবে এবারের এই ‘হিন্দি-বাংলা খিচুড়ি’ বিজ্ঞাপনে বাঙালি নেটিজেনদের ক্ষোভ যে সহজে থামছে না, তা কমেন্ট সেকশনে চোখ রাখলেই স্পষ্ট!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *