“গ্যালারিতে হাততালি নয়, পিচে নেমে খেলুন!” পুরভোটে প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপির নজিরবিহীন চাল, বিরাট ঘোষণা সুকান্তর

আসন্ন কলকাতা পুরনিগম (KMC) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। দুর্নীতির অবসান এবং শহরের চেহারায় আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়ে এবার প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় ও অভিনব ফর্মুলা সামনে আনল ভারতীয় জনতা পার্টি। পুরভোটে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চাইলে এখন আর কোনও নেতার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না; সরাসরি পার্টি অফিসের নির্দিষ্ট ‘ড্রপ বক্সে’ নিজের জীবনপঞ্জি বা বায়োডাটা ফেলে প্রার্থী হওয়ার আবেদন জানানো যাবে।

রবিবার এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে দলের এই ঐতিহাসিক রণকৌশল স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। সমাজের চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম—সকলকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

“পিচে নেমে খেলুন”: সমাজের বিশিষ্টদের প্রতি সুকান্তর বার্তা

সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানান, নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত কলকাতা গড়তে কেবল চেনা দলীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। সমাজের গুণী ও কৃতী মানুষদের ময়দানে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন:

“গ্যালারিতে বসে হাততালি দিলে বা কেবল বাইরে থেকে সমালোচনা করলে পরিবর্তন আসবে না। এবার আপনাদের পিচে নেমে ব্যাট ধরতে হবে। স্বচ্ছ পুরনিগম গড়তে হলে চিকিৎসক, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সমাজসেবী এবং তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে এসে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে হবে।”

কী এই ড্রপ বক্স ফর্মুলা? কারা করতে পারবেন আবেদন?

বিজেপির ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের রাজ্য কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ড্রপ বক্সটি রাখা থাকবে। সোমবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই ব্যবস্থা:

  • সরাসরি আবেদন: অফিস খোলা থাকাকালীন যে কোনও আগ্রহী ব্যক্তি—তিনি সক্রিয় দলীয় কর্মী হোন বা সাধারণ নাগরিক—নিজের সম্পূর্ণ বায়োডাটা খামে ভরে ড্রপ বক্সে ফেলে আসতে পারবেন।

  • কঠোর স্ক্রিনিং ও স্বচ্ছতা: জমা পড়া সমস্ত আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রার্থীর এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা, স্বচ্ছ ও সৎ ভাবমূর্তি এবং জয়লাভের সম্ভাবনা—এই তিনটি প্রধান মাপকাঠিতেই টিকিট চূড়ান্ত করা হবে।

  • নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ: কেবল প্রার্থীরাই নন, শহরের সাধারণ মানুষও নিজেদের ওয়ার্ডের নানা সমস্যা ও অভাব-অভিযোগ লিখিত আকারে এই বাক্সে জানাতে পারবেন।

“প্রোমোটার বা ডেভেলপারদের হাতে পুরবোর্ড থাকবে না”

শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ শানিয়ে সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, শহরের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে ছিল সিন্ডিকেট সংস্কৃতি ও তোলাবাজির কারণে। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি পুরবোর্ডের রাশ হাতে পেলে কোনও প্রোমোটার বা অসাধু ডেভেলপারদের দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

দেবীপক্ষের আবহে পুরভোটের প্রস্তুতি হিসেবে বিজেপির এই ড্রপ বক্স কৌশল এবং পেশাদার সমাজের কাছে সুকান্ত মজুমদারের এই ডাক বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পার্টি পলিটিক্সের বাইরে গিয়ে আমজনতার এই অংশগ্রহণ পুরভোটের সমীকরণ কতটা বদলাতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *