টানা ২০ ঘণ্টার চরম নাটক শেষ! থানা থেকে মুক্তি পেলেন সিজেপি-র ৩ শীর্ষ নেতা, বেরিয়েই বড় হুঙ্কার

জাতীয় রাজধানী দিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে ‘যন্তরমন্তর চলো’ অভিযানকে ঘিরে চলা নজিরবিহীন টানাপোড়েন অবশেষে এক নতুন মোড় নিল। টানা প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় পুলিশি হেফাজতে থাকার পর অবশেষে থানা থেকে মুক্তি পেলেন দলটির তিন শীর্ষ মুখ—প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।
শনিবার মুম্বই থেকে দিল্লিতে বিমানে নামামাত্রই রানওয়েতে তাঁদের নাটকীয়ভাবে আটক করেছিল পুলিশ। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁদের কোনো খোঁজ না মেলায় চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে তাঁদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শেষপর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়।
বিমানের ভেতর থেকেই আটক, রুদ্ধশ্বাস ২০ ঘণ্টা
শনিবার রাজধানীতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সিজেপি-র মহা-বিক্ষোভের ডাক ছিল। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে বিমানে দিল্লিতে এসেছিলেন তিন শীর্ষ নেতা। তবে বিমানটি দিল্লির রানওয়েতে স্পর্শ করতেই দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল বিমানে উঠে পড়ে এবং তাঁদের আটক করে অজানা স্থানে নিয়ে যায়। দিনভর তাঁদের অবস্থান নিয়ে প্রবল ধোঁয়াশা তৈরি হয় এবং দলটির তরফে দাবি করা হয় যে শীর্ষ নেতাদের কার্যত নিখোঁজ করে রাখা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাস থেকে মুক্তি
রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় আইনি নথিপত্র তৈরির পর তিন নেতাকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করানো হয়। সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আইনি বন্ড ও শর্তসাপেক্ষে তাঁদের মুক্তি মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট। উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার গভীর রাতে আরেক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও গুরুগ্রাম থেকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ।
মুক্ত হতেই ফের প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি
থানা ও আদালতের হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেও আন্দোলনের পথ থেকে যে তাঁরা সরছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিজেপি নেতৃত্ব। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে তাঁদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলেই জানিয়েছেন আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। অন্যদিকে, ঠাকুরমার আকস্মিক প্রয়াণের কারণে গ্রামে রওনা হওয়ার আগে সিজেপি সুপ্রিমো অভিজিৎ দিপকেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো দমনপীড়ন বা আইনি ভয় দেখিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
আন্দোলনের প্রথম দিনে প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করার পর শীর্ষ নেতাদের এই দীর্ঘ আটকের ঘটনা রাজধানীতে বিরোধীদের ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল।