“গদি ছাড়তেই হবে!” নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে উত্তাল কলকাতা, রাজপথে গর্জে উঠে কী দাবি বিক্ষোভকারীদের?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির সংসদ চত্বর ও যন্তর মন্তরে যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল, তার তীব্র আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল কলকাতার রাজপথে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকায় ব্যাপক অসঙ্গতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিতর্কের জেরে কলকাতায় আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শোনা গেল বহু বিতর্কিত ‘আজাদি’ স্লোগান।

জাতীয় স্তরে বিরোধীদের আন্দোলনের রেশ ধরে তিলোত্তমার বুকেও ছাত্র-যুব ও সাধারণ নাগরিকদের এমন উত্তাল জমায়েত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

রাজপথ কাঁপিয়ে ‘আজাদি’ রব

এদিন কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়। প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও পোস্টার হাতে শত শত আন্দোলনকারী রাজপথে নামেন। মিছিল এগিয়ে চলার সময় তাঁদের গলা থেকে সমস্বরে ওঠে স্লোগান—”স্বৈরতন্ত্র থেকে আজাদি”, “ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে আজাদি”। মুহূর্তের মধ্যে পুরো চত্বর ওই স্লোগানে গমগম করে ওঠে।

কেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ?

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ:

  • স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বিনষ্ট: সাংবিধানিক স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন শাসকদলের স্বার্থে কাজ করছে বলে দাবি করা হয়।

  • ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ: ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ যোগ্য নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা বজায় রাখার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

  • দিল্লিতে দমনপীড়নের নিন্দা: রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ, ইন্টারনেট বন্ধ এবং গণআটকের বিরুদ্ধে কলকাতায় এই সংহতি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

ক্রমশ চড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ

দিল্লিতে ইন্ডিয়া (INDIA) জোট, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলনের পর এবার কলকাতার রাজপথে এই ধরনের স্লোগান ওঠায় পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই আন্দোলন থামবে না, বরং আগামী দিনে তা আরও বৃহত্তর গণবিক্ষোভের রূপ নেবে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *