আন্দোলন রুখতে এত ভয়? ‘বিশ্বগুরু’ ও ‘৫৬ ইঞ্চি’ কটাক্ষ ছুড়ে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিপি চেক করার নিদান!

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাপ যখন চরমে, ঠিক তখনই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিল আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের আগেই রাজধানী অভিমুখী দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল, মেট্রো চলাচলে কড়াকড়ি এবং হোটেল বুকিংয়ে নিষেধাজ্ঞার খবর সামনে আসতেই খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করলেন সিজেপি নেতারা। সুর চড়িয়ে চরম ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে “রক্তচাপ মাপার” নিদান পর্যন্ত দিয়ে বসলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যুবসমাজ রাস্তায় নামার আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করায় সরকারের এহেন আচরণকে নজিরবিহীন কটাক্ষে বিদ্ধ করেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।
“মাঝে মাঝে নিজের বিপি চেক করবেন!”
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও ও বার্তায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। রাজধানীজুড়ে ৩৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন ও জনজীবন স্তব্ধ করার তোপ দেগে তিনি বলেন:
-
‘৫৬ ইঞ্চি’ কটাক্ষ: সাধারণ যুবসমাজ গণতান্ত্রিক দাবিতে পথে নামছে দেখেই ট্রেন ও গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তথাকথিত ‘বিশ্বগুরু’ ও ‘৫৬ ইঞ্চির মহামানব’ কি এতটাই ভীত?
-
বিপি মাপার কটাক্ষ: মোদীকে সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “স্যার, মাঝে মাঝে নিজের রক্তচাপটা (BP) পরীক্ষা করিয়ে নেবেন।”
জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা
সিজেপি-র শীর্ষ সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে দেশের কুখ্যাত জরুরি অবস্থার তুলনা টানেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত ইন্দিরা গান্ধীও তাঁর শাসনামলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রুখতে ট্রেন চলাচল স্তব্ধ করে দেননি।” আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কার প্রশ্ন—একদিকে প্রশাসন দাবি করছে এই আন্দোলনে কোনও মানুষের সমর্থন নেই, অন্যদিকে সামান্য জমায়েতের ভয়েই কেন পুরো রাজধানীতে অচলাবস্থা তৈরি করা হলো?
“দেশ বন্ধ করে দিলেও আমরা থামব না”
সিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ সাধারণ নাগরিককে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার দিয়েছে। মেট্রো স্টেশন সিল করে, ট্রেন বাতিল করে বা নেতাদের আটকে রেখে যুবসমাজের এই প্রতিবাদের আগুন কোনোভাবেই নেভানো যাবে না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এই তরুণ আন্দোলনকারীদের ধারালো বাক্যবাণ এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন আক্রমণ জাতীয় রাজনীতির পারদকে কার্যত অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিল।