“লড়াই না থাকলে গণতন্ত্র বাঁচবে না!” দিল্লির পুলিশি অ্যাকশনে রক্ত গরম করা হুংকার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় রাজধানী দিল্লির রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশের লাগাতার ধরপাকড় ও কড়া নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় এবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রবীণ বাম নেতা তথা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। জাতীয় রাজধানীতে যে ধরনের পুলিশি নজরদারি ও ধরপাকড়ের চিত্র উঠে আসছে, তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদের অধিকারই আসল, আর সেই অধিকারের জন্য লড়াই না করলে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে বাধ্য।
যন্তরমন্তরে ছাত্র-যুব সংগঠন, বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) কর্মী-সমর্থকদের আটকের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ার মাঝেই এই কড়া বার্তা দিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।
“গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিমান বসু ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, নাগরিকরা যখন সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছতার দাবিতে শান্তিপূর্ণ পথে সমাবেশ করতে নামছেন, তখন প্রশাসন চরম দমনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য:
“গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষ আন্দোলন করতে চাইছে। অথচ সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধেই কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না, মানুষ যদি নিজের অধিকারের জন্য লড়াই না করে, তাহলে দেশের গণতন্ত্র কিন্তু বিপন্ন হয়ে পড়বে। এই স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধই একমাত্র পথ।”
রাজধানীতে দফায় দফায় উত্তেজনা ও গ্রেফতারি
প্রসঙ্গত, দিল্লির যন্তরমন্তর চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা, ধারা ১৬৩ (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা এবং বিপুল পুলিশ ও আধাসেনা নামিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তোলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। যন্তরমন্তরের দিকে মিছিল করে এগোনোর সময় এসএফআই (SFI), আইসা (AISA) এবং ক্রান্তিকারী যুব সংগঠনের (KYS) ছাত্র-যুবদের পাশাপাশি বাম সাংসদ জন ব্রিটাস, বৃন্দা কারাত-সহ একাধিক বিরোধী নেতানেত্রীকে বলপূর্বক আটক করে পুলিশ।
দেশজুড়ে প্রতিবাদের আগুন
দিল্লিতে এই ব্যাপক ধরপাকড় ও লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথেও গর্জে উঠেছে ছাত্র ও যুব সমাজ। মহালয়ার আবহেই রাজ্যজুড়ে বামপন্থী সংগঠনগুলি পথে নেমে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দিল্লির বুকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন কেবল একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিমান বসুর মতো প্রবীণ নেতৃত্বের এমন ঝাঁঝালো আক্রমণ প্রমাণ করছে যে, কেন্দ্র সরকারের পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই আন্দোলনকে সর্বভারতীয় স্তরে এক বৃহত্তর রাজনৈতিক রূপ দিতে চলেছে।