কেষ্টর পাশে ফের পুলিশের পাহারা! সরকারের এই চালে কি বড় কোনও খেলা? প্রশ্ন তুলে শোরগোল ফেললেন বিজেপি সাংসদ

তিহাড় জেল থেকে জামিনে বীরভূমে ফেরার পরই ফের খবরের শিরোনামে তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তবে এবার কোনও রাজনৈতিক সমাবেশ বা হুঙ্কারের জন্য নয়, বরং হঠাৎ করে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে নতুন করে সরকারি দেহরক্ষী ও নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ জেলবাসের পর মুক্ত এক নেতার সুরক্ষায় কেন সরকারি খরচে এমন তৎপরতা, তা নিয়ে সরাসরি শাসকদল ও পুলিশ-প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
গরু পাচার মামলায় দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর বীরভূমে নিজের ডেরায় ফিরেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি। ফিরতেই তাঁর নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ফের আঁটসাঁট করেছে রাজ্য পুলিশ, যা ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের বারুদ।
দেহরক্ষী বরাদ্দ নিয়ে কী বলছেন সৌমিত্র খাঁ?
অনুব্রত মণ্ডলকে সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র শ্লেষ ছুড়ে দেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁর দাবি, এই দেহরক্ষী আসলে নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ও গোপন তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা।
সৌমিত্র খাঁ তোপ দেগে বলেন:
-
“মুখ বন্ধ রাখার পাহারা”: অনুব্রত মণ্ডলের কাছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন বহু গোপন তথ্য রয়েছে যা প্রকাশ্যে এলে শাসক শিবিরের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। সেই কারণেই তাঁকে পাহারা দেওয়ার নাম করে কার্যত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
-
জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয়: একজন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত এবং জামিনে মুক্ত নেতার পেছনে সাধারণ করদাতাদের টাকায় কেন বিশেষ নিরাপত্তার বহর বাড়ানো হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দিকে আঙুল তুলেছেন বিজেপি সাংসদ।
-
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া: বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রতর প্রত্যাবর্তনের পর দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই যে তীব্র হয়েছে, সেই বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে দলের ভেতরের অসন্তোষ থেকেই হয়তো ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে।
শাসক শিবিরের যুক্তি
এদিকে বিরোধীদের তোলা সমস্ত অভিযোগকে এককথায় উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘাসফুল শিবিরের বক্তব্য, কোনও নাগরিক বা জনপ্রতিনিধির জীবনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবেই নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত নেয়। অনুব্রত মণ্ডল এখনও দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর গতিবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের আইনি দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। একে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
অতীতে অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতা রাজ্যবাসী দেখেছে। এবার জেলমুক্তির পর কেষ্টর পাশে ফের পুলিশের উর্দিধারীদের পাহারা বসে যাওয়া নিয়ে পুজোর মুখে বীরভূম তথা গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।