বিপদে পড়লেই নিমেষে মিলবে সাহায্য! রাজ্যে চালু হলো সর্বজনীন হেল্পলাইন ১১২, ঠিক কীভাবে কাজ করবে এই পরিষেবা?

বিপদে পড়লে পুলিশের জন্য ১০০, অগ্নিকাণ্ডে দমকলের জন্য ১০১ আর অসুস্থতায় অ্যাম্বুল্যান্স ডাকতে ১০২—জরুরি পরিস্থিতিতে আলাদা আলাদা নম্বর মনে রাখা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির দিন এবার শেষ হতে চলেছে। উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের একাধিক রাজ্যের সফল ধাঁচে এবার এ রাজ্যেও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো সর্বজনীন জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ‘১১২’ (Emergency Response Support System বা ERSS)।
এখন থেকে যেকোনো বিপদে শুধুমাত্র এই একটিমাত্র নম্বরে ফোন করলেই মিলবে সমস্ত ধরনের জরুরি সরকারি পরিষেবা। সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই বড়সড় পদক্ষেপ।
কেন আলাদা নম্বর বাদ দিয়ে শুধুই ‘১১২’?
আগে জরুরি পরিস্থিতিতে কোন দফতরে আগে যোগাযোগ করতে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় বিপর্যয়ে পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স—তিনটি বিভাগেরই একই সঙ্গে প্রয়োজন পড়ে। আলাদা আলাদা নম্বরে ফোন করে পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হতো। সেই জটিলতা কাটাতেই আমেরিকার ‘৯১১’-এর ধাঁচে ভারতে একীভূত এই ‘১১২’ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে।
বিপদে পড়লে কীভাবে মিলবে সাহায্য?
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই হেল্পলাইনের পেছনে কাজ করবে একটি আধুনিক ও সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (Central Command Centre):
-
এক কলেই দ্রুত সাড়া: বিপদে পড়ে ‘১১২’ নম্বরে ডায়াল করার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনটি চলে যাবে কেন্দ্রীয় সেন্টারে। সেখানে প্রশিক্ষিত কর্মীরা কলারের সমস্যা শুনবেন এবং জিপিএস (GPS) প্রযুক্তির মাধ্যমে কলারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করবেন।
-
সরাসরি স্থানীয় থানায় বার্তা: ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মুহূর্তের মধ্যে নিকটবর্তী থানা, পেট্রোলিং ভ্যান, দমকল কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যাম্বুল্যান্সকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ পাঠানো হবে।
-
স্মার্টফোনের জরুরি বোতাম: সাধারণ ফোন কল ছাড়াও স্মার্টফোনের পাওয়ার বাটন পরপর তিনবার টিপে প্যানিক অ্যালার্ট পাঠালে কিংবা ফিচার ফোনের ৫ বা ৯ নম্বর কি চেপে রাখলেও সরাসরি ‘১১২’ কেন্দ্রে সংকেত পৌঁছে যাবে।
নারী সুরক্ষা ও সাধারণের নিরাপত্তা বাড়াতে কড়া নজরদারি
বিশেষ করে রাতের বেলা নারীদের নিরাপত্তা ও একা বসবাসকারী প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে। ফোন করার পর সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর ডিজিটাল ট্র্যাকিং থাকবে, যাতে কোনও গাফিলতির সুযোগ না থাকে।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, পুরনো নম্বরগুলি (যেমন ১০০ বা ১০১) এখনই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না; তবে সেই নম্বরগুলিতে ডায়াল করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা ‘১১২’ কল সেন্টারে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে ‘১১২’ নম্বরে ফোন করে নিজের অবস্থান ও সমস্যার কথা জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।