আন্দোলনকারীদের মাঝপথেই গ্রেফতার? শীর্ষ আদালতের নজিরবিহীন নির্দেশিকায় তোলপাড় রাজধানী!

গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো নাগরিকদের মৌলিক অধিকার—এই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করে দিল্লি পুলিশের নির্বিচার ধরপাকড় ও আটক পদ্ধতির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। কোনও আন্দোলন বা জমায়েতে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের মাঝপথেই ট্রানজিট বা যাতায়াতের সময় খেয়ালখুশিমতো আটক করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সম্প্রতি দিল্লিতে বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ চলাকালীন জমায়েতস্থলেই পৌঁছাতে না দিয়ে পথ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ ওঠে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই প্রেক্ষিতেই এক জরুরি শুনানিতে পুলিশের এমন ‘অতিসক্রিয়’ ভূমিকার রাশ টানল আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা
শীর্ষ আদালত দিল্লি পুলিশের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিয়ে জানিয়েছে:
-
পূর্ব নোটিস বাধ্যতামূলক: কাউকে প্রিভেনটিভ ডিটেনশন বা আগাম আটকের আওতায় নিতে হলে উপযুক্ত কারণ দর্শিয়ে লিখিত নোটিস দিতে হবে। মনগড়া বা মৌখিক নির্দেশে কাউকে রাস্তা থেকে তোলা যাবে না।
-
ট্রানজিট বা চলাচলে বাধা নয়: কেবল কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাওয়ার সন্দেহে বিমানবন্দর, রেল স্টেশন বা বাস টার্মিনাল থেকে নাগরিকদের আটক করে চলাফেরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা সংবিধানবিরোধী।
-
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার: যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে না বা আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটাচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অহিংস প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বলপ্রয়োগ করা যাবে না।
-
আদালতে পেশ ও জবাবদিহি: কোনও ব্যক্তিকে আটক করা হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিকটবর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে এবং আটকের বৈধ যুক্তি নথিভুক্ত রাখতে হবে।
রাজধানীতে কেন এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ?
গত কয়েক দিনে জাতীয় রাজধানীতে একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক পুলিশি ধরপাকড়ের সাক্ষী থেকেছে দেশ। বিমানবন্দর থেকে নেমেই আন্দোলনকারীদের প্রিজন ভ্যানে তোলা, মধ্য দিল্লির যন্তরমন্তর ও কনট প্লেসে যাতায়াতে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো ঘটনায় ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল নাগরিক মহলে। পুলিশের এই আচরণকে সরাসরি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ প্রশাসনের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্রে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশি ক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক নির্দেশিকা তাতে এক শক্ত আইনি প্রতিরোধ গড়ে তুলল।