ক্লাসরুমে পড়াশোনা শিকেয়! ছাত্রের টাক মাথাকেই বানিয়ে নিলেন তবলা, ভাইরাল ভিডিও দেখেই বড় পদক্ষেপ নিলেন শিক্ষা আধিকারিকরা

শ্রেণিকক্ষ হল জ্ঞানার্জনের মন্দির। অথচ সেই পবিত্র শিক্ষাঙ্গনেই পড়াশোনা পুরোপুরি শিকেয় তুলে জমজমাট গানের আসরে মেতে উঠলেন খোদ শিক্ষক ও পড়ুয়ারা! শুধু তাই নয়, এক ছাত্রের ন্যাড়া মাথাকেই ‘তবলা’ বানিয়ে তাতে তবলা বাজিয়ে আসর জমানোর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। আর এই অশিক্ষকসুলভ ও শিহরণ জাগানো ঘটনার জেরে বড়সড় পদক্ষেপ করেছে শিক্ষা দফতর।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়াহ (Etawah) জেলার একটি প্রাইমারি স্কুলে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম দীনেশ কুমার মাথুর। ক্লাসরুমের অন্দরের এই বেসামাল আনন্দের মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করতে তিনি নিজেই ক্লাসের এক ছাত্রকে তাঁর নিজের ফোনটি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই ভিডিও পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও আপলোড করেন ওই শিক্ষক।

ঠিক কী দেখা গিয়েছে ভাইরাল ভিডিওতে?
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, ক্লাসরুমের একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন শিক্ষক দীনেশ কুমার মাথুর। তাঁর চারপাশে মাটিতে জটলা করে বসে রয়েছে কচিকাচা পড়ুয়ারা। এক ছাত্রকে নিজের পায়ের কাছে বসিয়ে রেখে, মজার ছলে তার ন্যাড়া মাথার ওপর হাত চাপড়ে তবড়ার আদলে বাজাচ্ছেন ওই শিক্ষক। শিক্ষকের এই কাণ্ড দেখে ক্লাসের বাকি ছাত্ররাও হাসিতে ফেটে পড়ে। শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বিসর্জন দিয়ে শিক্ষকের এই অদ্ভুত উল্লাসের দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে সাইবার দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষা দফতরের কঠোর পদক্ষেপ
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তা উত্তরপ্রদেশের বেসিক এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ আধিকারিকদের নজরে আসে। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা নষ্ট করার দায়ে এবং একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ একেবারেই অপ্রত্যাশিত হওয়ায়, সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত ওই প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত (Suspend) করা হয়েছে। শিক্ষা দফতরের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন আচরণ ভবিষ্যতে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে, নেটদুনিয়াতেও এই ভিডিও সামনে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *