স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড আছে? সরকারি কর্মীদের জন্য নবান্নের কড়া নির্দেশিকা না মানলে বড় পদক্ষেপের হুঙ্কার!

সরকারি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি শুরু হলো। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে হবে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ড। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কী নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন?
সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের হাতে থাকা এই স্বাস্থ্য কার্ডগুলি জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যে দফতরে বা বিভাগে কর্মীরা কর্মরত, সেই নির্দিষ্ট বিভাগেই তাঁদের কার্ড জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতি মেনে একটি ঘোষণাপত্র এবং কার্ড জমা দেওয়ার রসিদও সংগ্রহ করতে হবে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জমা পড়া ঘোষণাপত্র ও প্রামাণ্য নথিগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে যারা কার্ড জমা দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?
প্রশাসনের নজরে এসেছে যে, কিছু সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী একাধারে রাজ্য সরকারের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর (West Bengal Health Scheme) সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডও নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন। এই দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা রুখতেই বাধ্যতামূলকভাবে এই কার্ডগুলি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প দুটির সংক্ষিপ্ত পরিচয়
উল্লেখ্য, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্প। ২০১৮ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY)-র মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি প্রতি বছর পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকে। আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক পরিবারের চিকিৎসার খরচ কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ২০২৪ সালে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও এই প্রকল্পের পরিধি আরও প্রসারিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের নিজস্ব স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেও মিলছে চিকিৎসার সুবিধা। তবে ডবল বেনিফিট বা জোড়া স্বাস্থ্যবিমার দৌরাত্ম্য রুখতে নবান্নের এই নয়া পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য প্রশাসনে ও সরকারি কর্মচারীদের মহলে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।