মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন ও দমনপীড়ন! রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ উড়িয়ে ভারতের কড়া জবাব

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং তা মোকাবিলায় প্রশাসনের দমনপীড়নের অভিযোগে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (UNHRC)। শনিবার জেনিভায় কাউন্সিলের সদর দফতর থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লির এই ঘটনাবলী নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। আর এই বিবৃতির পরেই কালক্ষেপ না করে কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারত।

জেনিভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস থেকে অবিলম্বে এই বিষয়ে পালটা বিবৃতি দেওয়া হয়। মানবাধিকার কাউন্সিলের এই প্রতিক্রিয়াকে ‘ভিন্নধর্মী’ ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভারত একটি শক্তিশালী ও উদার গণতান্ত্রিক দেশ। দেশের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মুক্ত সংবাদমাধ্যম এবং প্রশাসনিক তদারকি ব্যবস্থা সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। ভারতের সাফ কথা, রাষ্ট্রসংঘের এই কাউন্সিল সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযথা নাক গলাচ্ছে।

মানবাধিকার কাউন্সিলের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক বিতর্ক
রাষ্ট্রসংঘের এই সংস্থাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এর আগেও ভারত একাধিকবার এই কাউন্সিলের দ্বিমুখী নীতি ও ভূমিকা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছে। সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়কার আন্দোলন নিয়ে কাউন্সিলের ভূমিকা প্রবল প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। সে সময় ১৪০০ মানুষকে খুন করা হয়েছে বলে কাউন্সিলের তরফে রিপোর্ট দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময়ে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান তারেক রহমান প্রশাসন জানায় যে মৃতের সংখ্যা আসলে ৮০৪। এমনকি এই মৃতদের সকলের নাম-পরিচয়ও সরকার এখনও প্রকাশ্যে আনতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, মানবাধিকার কাউন্সিল কীভাবে ১৪০০ জনের মৃত্যুর ওই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করল, তার কোনও সদুত্তর তারা দিতে পারেনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনাও এই পরিসংখ্যানের উৎস জানতে চেয়ে কাউন্সিলের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাননি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি ও ভারতের পরামর্শ
শনিবার দিল্লির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিক্রিয়ার জবাবে ভারতকে একহাত নেয় নয়াদিল্লি। সংস্থাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলা প্রকট মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলির দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একাধিক দেশ বড় ধরনের সংকটের মুখে রয়েছে। এই মুহূর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে পাকিস্তান। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে শুরু হওয়া পিটিআই-এর লং মার্চ রুখতে গোটা ইসলামাবাদকে কার্যত সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার এবং ওই প্রদেশটিকে পুরোপুরি ‘সিল’ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে তীব্র ছাত্র আন্দোলন। প্যারিসে আরও স্কুল, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ইতিমধ্যেই গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটেন, বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, গ্রিস, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলিতেও একই দাবিতে আন্দোলন চলছে। ফরাসি পুলিশ সহ বিভিন্ন দেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন দমনে নির্বিচারে দমনপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফরাসি পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রায় সাত হাজার স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর। বিশ্বজুড়ে এমন বহু বড় সংকট চলমান থাকলেও, রাষ্ট্রসংঘের কাউন্সিলের একাংশের ভূমিকা নিয়ে ভারত যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল, তা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *