হড়পা বানে ভেসে গেল ৩টি সেতু! নেপালে শুকনো ভূমিধসের জেরে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ল কোন কোন এলাকা?

কয়েক সপ্তাহ আগের বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি। তার মধ্যেই নতুন করে হড়পা বানের কবলে পড়ে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠল নেপালে। মানাসলু অঞ্চলের শুকনো ভূমিধসের জেরে বুড়ি গণ্ডকী নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর আচমকা এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জলের প্রবল তোড়ে গোর্খা জেলার একাধিক জনপদ জলের তলায় চলে গেছে, ভেসে গেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং বহু বাড়িঘর।

কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়?
নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধস নয়, এবার এক বিশাল ‘শুষ্ক ভূমিধস’ এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মানাসলু অঞ্চলে পাহাড়ি মাটি ও পাথর ধসে পড়ে বুড়ি গণ্ডকী নদীর স্বাভাবিক স্রোত আটকে দেয়। এর ফলে নদীর জলের উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং একসময় ওই কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে নেমে আসে হড়পা বান। কাদা, পাথর ও বিশাল বোল্ডারের ধাক্কায় নিম্নাঞ্চলের জনবসতিগুলিতে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসলীলা শুরু হয়।

কোথায় কেমন ক্ষয়ক্ষতি?
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আকস্মিক বন্যায় গোর্খা জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে:

সেতু ধ্বংস: বুড়ি গণ্ডকী নদীর ওপর থাকা দুটি ঝুলন্ত সেতু এবং একটি বড় স্টিলের সেতু জলের তোড়ে সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে স্থল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও গোয়ালঘর প্লাবিত: চুমনুব্রি ও ধরচে গ্রামীণ পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। মাচ্ছাখোলা এলাকায় ৫ থেকে ৭টি বাড়ি এবং বহু গোয়ালঘরে জল ঢুকে গেছে। সিরদিবাসে রাম বাহাদুর গুরুংয়ের একটি মাটির বাড়ি পুরোপুরি ভেসে গিয়েছে এবং তাঁর অন্য একটি বাড়িও জলমগ্ন।

বিপদের মুখে বসতি: সালেরি এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২২টি বাড়ি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সল্লেরি ও জগৎ বাজারের কিছু অংশ জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ৩৫টিরও বেশি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও খবর।

দুর্গতির রেশ কাটেনি আগেই নতুন আতঙ্ক
গত ২৬ অগাস্ট নেপালে এক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছিল। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই বিপর্যয়ে নেপালে অন্তত ১,৪৫৫ জনের প্রাণহানি হয়েছিল এবং এখনও ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সেই মহাবিপর্যয়ের রেশ কাটিয়ে যখন সাধারণ মানুষ জীবন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই বুড়ি গণ্ডকীর এই নতুন হড়পা বান দেশটিতে ফের বড়সড় আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দলগুলি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচুতে সরে যাওয়ার জন্য বারংবার সতর্ক করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *