‘ষষ্ঠীর আগেই ২০ শতাংশ ডিএ-সহ অগ্রিম বেতন’-মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বড় ঘোষণা

: মহালয়ার পবিত্র ভোরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ষষ্ঠীর মধ্যেই সমস্ত সরকারি কর্মচারী ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA)-সহ চলতি অক্টোবর মাসের অগ্রিম বেতন হাতে পেয়ে যাবেন। উৎসবের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে জরুরি পরিষেবার মান উন্নত করতে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম’ (ERSS)-এর সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর অঙ্গ হিসেবে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের হাতে মোট ৪৫০টি নতুন গাড়ি এবং ৪৫০টি মোটরবাইক তুলে দেওয়া হয়। আপাতত প্রতিটি থানায় একটি করে গাড়ি ও বাইক দেওয়া হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি থানায় চারটি করে গাড়ি ও বাইক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে গাড়ি পরিচালনার জন্য দ্রুত ১৫০০ নতুন চালক নিয়োগ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্বের তৃণমূল কংগ্রেস জমানার পুলিশি ব্যবস্থাকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে ‘সিভিক নির্ভর’ হয়ে পড়েছিল, বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থা বদলে দিয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ওবিসি সংরক্ষণের ভুল পদ্ধতিকে সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া থানাগুলির বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি জানান, ওয়াটগঞ্জ বা একবালপুরের মতো প্রাচীন থানাগুলির জীর্ণ দশা পাল্টাতে হবে এবং দ্রুত আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
রাজ্য পুলিশের দক্ষতার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক সুযোগ ও স্বাধীনতা পেলে রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআই বা এনআইএ-র থেকেও অনেক ভালো কাজ করতে পারে। সম্প্রতি বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও নগদ উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এজন্য আলাদা করে ইডি বা সিবিআইয়ের প্রয়োজন হয় না।
মহিলা ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন, “আরজি কর বা বারুইপুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনও না ঘটে।” রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের বিবাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সন্তান ধারণের প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে বলে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি, সমাজবিরোধী ও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, দল বা ধর্ম না দেখে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা (টাইট দিয়ে দেওয়া) নিতে হবে।