“ইন্দিরা গান্ধীও এমন করেননি!”-অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হলো CJP প্রধানকে, অগ্নিগর্ভ রাজধানী!

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বহুল চর্চিত প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির পারদ এখন ফুটন্ত পর্যায়ে। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং নেত্রী রত্না সিংয়ের পর এবার দিল্লি বিমানবন্দরে পা রাখতেই আটক হলেন CJP-র তিন শীর্ষ নেতা—প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। বিমান অবতরণের পর রানওয়েতেই নাটকীয়ভাবে তাঁদের পাকড়াও করে দিল্লি পুলিশ।

সূত্র মারফত জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে তাঁদের সাধারণ যাত্রীদের প্রবেশপথ দিয়ে না বের করে একটি বিশেষ প্রাইভেট গেট দিয়ে বাসে করে ‘অজ্ঞাত স্থান’-এ নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশি সূত্র অনুযায়ী, অভিজিৎ দীপকেকে গুরুগ্রামে, আশুতোষ রাঙ্কাকে দ্বারকায় এবং সৌরভ দাসকে দিল্লির একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হচ্ছে।

এদিকে, বিমানের ভেতরে পুলিশি অভিযানের একটি রোমহর্ষক ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিমান অবতরণের পর অন্য যাত্রীরা নামার সময়েই আচমকা কয়েকজন সশস্ত্র পুলিশকর্মী বিমানের ভেতরে প্রবেশ করেন। পুলিশ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “দেখুন, বিমান থেকেই আমাদের গ্রেপ্তার করতে চলে এসেছে! এরা যা করছে, তা ইন্দিরা গান্ধীও করেননি। এটা খাঁটি স্বৈরাচারী শাসন।”

সেই মুহূর্তে বিমানের ভেতরেই উপস্থিত যাত্রীদের একাংশ ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করলে পাল্টা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন CJP নেতৃত্ব। এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক তাঁদের সহযোগিতার আর্জি জানিয়ে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আসতে বললে দীপকে স্পষ্ট জানান, “আমি এখানে গ্রেপ্তার হতেই এসেছি, আমায় গ্রেপ্তার করুন।” যদিও দিল্লি পুলিশের তরফে সেটিকে প্রথাগত ‘আটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।

সিজেপি নেতৃত্বের আশঙ্কাকেই সত্যি করে এই ধরপাকড়ের পরই সুর চড়িয়েছে দল। এক কড়া বিবৃতিতে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, “আমাদের শীর্ষ নেতাদের যেভাবে স্বৈরাচারী কায়দায় আটক করা হলো, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দিল্লি পুলিশের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো যন্তর মন্তরের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে শুরুতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া। আমরা অবিলম্বে অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”

রাজধানীজুড়ে একদিকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অন্যদিকে শীর্ষ নেতাদের একের পর এক গ্রেফাতারি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মোড় নিয়েছে।

আজকের এই নজিরবিহীন ঘটনা ও আন্দোলনের পরবর্তী আপডেট পেতে আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানান এবং শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *