Form 7 জমা দেওয়ার নিয়মে বিশাল বদল, কারও নাম কাটার আগে শুনতেই হবে বক্তব্য!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যখন দেশজুড়ে আন্দোলন তীব্র রূপ নিয়েছে এবং বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই ভোটার তালিকা সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে এক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে রাজধানী দিল্লি সহ সারা দেশ যখন সরগরম, সেই আবহে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঢালাও আবেদন (Form 7) রুখতে নতুন ও কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ১০টি ‘ফর্ম ৭’ জমার সীমা

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অনলাইন কিংবা অফলাইন— যে মাধ্যমেই আবেদন করা হোক না কেন, ভুয়ো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আবেদন রুখতে ফর্ম ৭ জমার সংখ্যায় নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

  • দাবি ও আপত্তির সময়ে: কোনো ভোটার বা আবেদনকারী পুরো দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমায় সর্বোচ্চ ১০টি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারবেন।

  • ধারাবাহিক সংশোধনকালে: ভোটার তালিকার ধারাবাহিক সংশোধন প্রক্রিয়া চলার সময় প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫টি ফর্ম জমা দেওয়া যাবে।

  • অনলাইন এবং অফলাইন— দুই ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এই নতুন নিয়ম কড়াভাবে কার্যকর হবে।

নির্বাচন কমিশনের ‘ফর্ম ৭’ কী এবং কেন ব্যবহার হয়?

ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ‘ফর্ম ৭’ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি মাধ্যম। এটি প্রধানত তিনটি কারণে ব্যবহার করা হয়:

  1. ভোটার তালিকায় ভুয়ো বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে আপত্তি জানাতে।

  2. কোনো ভোটার যদি নিজে থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিতে চান।

  3. কোনো ভোটারের মৃত্যু হলে কিংবা তিনি স্থায়ীভাবে অন্য কোথাও চলে গেলে তাঁর নাম তালিকা থেকে ছাঁটাইয়ের আবেদন জানাতে।

ফর্ম জমা পড়লে কীভাবে হবে নিষ্পত্তি?

সংবাদ সূত্রের খবর, ঢালাও আবেদন জমা পড়লেই আর কারও নাম হুট করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ফর্ম ৭ জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) অথবা বিএলও (BLO)-র সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • আপত্তিকারীর শুনানি: প্রথমে যিনি আপত্তি জানিয়ে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁকে নোটিস পাঠাতে হবে এবং ইআরসি (ERO) ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বক্তব্য নথিভুক্ত করবেন। আপত্তির পক্ষে যুক্তি ও পেশ করা নথি খতিয়ে দেখে আধিকারিককে নিজে নিশ্চিত হতে হবে।

  • একতরফা সিদ্ধান্ত নয়: যাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে, তাঁকেও নিজের সাফাই দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। উভয়ের বক্তব্য এবং তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে ১৯৬০ সালের নির্বাচনী নিবন্ধন বিধির ১৯ ও ২০ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার ছাঁটাইয়ের অভিযোগে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, তখন কমিশনের এই নয়া কড়াকড়ি ও স্বচ্ছতার বার্তা ভুয়ো নাম কাটা ঠেকাতে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *