উৎসবে নামার আগেই চরম আর্থিক সংকট! গ্রামীণ কর্মসংস্থানে এক ধাক্কায় ২৫ শতাংশ উল্লম্ফন, কপালে চিন্তার ভাঁজ

উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক দুর্দশার এক উদ্বেগজনক ছবি সামনে এল। গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প ‘বিকাশ ভারত – কর্মসংস্থান ও জীবিকার নিশ্চয়তা মিশন (গ্রামীণ)’ বা সংক্ষেপে ‘ভিবি-জি র্যাম-জি’ (VB-G RAM G, যা পূর্বে এমজিএনআরইজিএ বা MNREGA নামে পরিচিত ছিল)-তে সেপ্টেম্বর মাসে কাজের চাহিদা একলাফে ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্বল বর্ষা এবং কৃষি কার্যক্রমে সাময়িক স্থবিরতার জেরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অদক্ষ কায়িক শ্রমের চাহিদা যেভাবে হঠাৎ বেড়ে গেছে, তা দেশের গ্রামীণ এলাকার গভীর আর্থিক সংকটকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
সেপ্টেম্বর মাসে রেকর্ড সংখ্যক পরিবারের আবেদন:
গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রকল্পের অধীনে কাজের চাহিদা এক-চতুর্থাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসে যেখানে ১ কোটি ২৫ লক্ষ পরিবার কাজের সন্ধান করেছিল, সেপ্টেম্বর মাসে সেই সংখ্যাটি একলাফে বেড়ে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ পরিবারে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কাজের চাহিদা বেড়েছে প্রায় ২৫.২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, জুলাই মাসে এই নতুন প্রকল্পের অধীনে ১ কোটি ১ লক্ষ পরিবার কাজের আবেদন করলেও, সেপ্টেম্বরে কাজের প্রত্যাশীর মোট সংখ্যা আগস্টের ১.৫৪ কোটি থেকে লাফিয়ে ১ কোটি ৮৮ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ পরিসংখ্যান:
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপ্টেম্বরে ১.৫৬ কোটি পরিবারের কাজের এই বিপুল চাহিদা প্রমাণ করে যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক আয়ের সংস্থানের জন্য সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর কতটা বেশি নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, নতুন নিয়মের অধীনে এই প্রকল্পে নিশ্চিত বার্ষিক কর্মসংস্থানের দিন ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে এবং ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রবি শস্যের বপন মরসুম এবং উৎসবের চাহিদার মুখে গ্রামীণ শ্রম বাজারের এই করুণ দশা আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা।