চলতে পারেন না ছড়ি ছাড়া, তাঁকেই কিনা ‘শান্তিভঙ্গকারী’ বানাল পুলিশ! ৮০ বছরের বৃদ্ধার কাণ্ড দেখে তোলপাড়

উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলা থেকে পুলিশের এক অবিশ্বাস্য ও বিতর্কিত কর্মপদ্ধতির ছবি সামনে এসেছে। যেখানে ছড়ি কিংবা হুইলচেয়ারের সাহায্য ছাড়া এক পা-ও চলতে পারেন না ৮০ বছরের এক অসহায় বৃদ্ধা, খোদ সেই মহিলার থেকেই কিনা ‘শান্তিভঙ্গ’ হওয়ার আশঙ্কা দেখল পুলিশ! নিজের জমিতে থাকা গাছ জোর করে কেটে ফেলার অভিযোগ জানাতে থানায় যাওয়ায় উল্টে ওই বৃদ্ধা এবং অভিযুক্ত যুবক—উভয়ের বিরুদ্ধেই জামিনদার বা মুচলেকায় পাউন্ডের ধারায় (ধারা ১৫১) ব্যবস্থা নেয় দেবরনিয়া থানার পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ইতিমধ্যেই সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল জমুনিয়া গ্রামে?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বরেলির দেবরনিয়া থানার অন্তর্গত জামুনিয়া গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা রামা দেবীর বয়স প্রায় ৮০ বছর এবং বহু বছর আগেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। বৃদ্ধার অভিযোগ, তাঁর ব্যক্তিগত জমিতে কিছু মূল্যবান গাছ ছিল, যা গ্রামেরই এক প্রভাবশালী যুবক জোরপূর্বক কেটে বিক্রি করে দেয়। পুলিশের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় থানায় গিয়েছিলেন রামা দেবী। কিন্তু তাঁর অভিযোগ শোনার বদলে পুলিশ পক্ষপাতের আশ্রয় নেয় এবং অভিযোগকারী ওই বৃদ্ধা ও অভিযুক্ত যুবক উভয়কেই শান্তিভঙ্গ করতে পারেন এই আশঙ্কায় মুচলেকায় পাউন্ড করার মতো অদ্ভুত পদক্ষেপ নেয়।

“লাঠিতে ভর দিয়ে চলা মহিলার থেকে অশান্তি?” উঠছে প্রশ্ন:
পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও খামখেয়ালি আচরণ নিয়ে খোদ পুলিশি মহলেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই বয়সে যে নারী নিজে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না এবং চলাফেরার জন্য লাঠি বা হুইলচেয়ারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, তাঁর দ্বারা জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা পুলিশ কোন যুক্তিতে করল, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। এর জেরে ওই বয়স্ক মহিলাকে ন্যায়পরায়ণতার বদলে আইনগত মারপ্যাঁচে পড়ে আরও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

ডিএম-এর হস্তক্ষেপে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি:
স্থানীয় থানা থেকে কোনো ন্যায়বিচার না পেয়ে শেষপর্যন্ত বয়স্ক রামা দেবী সোজা হাজির হন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) কার্যালয়ে। জেলাশাসক অবিনাশ সিংয়ের সামনে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি। বৃদ্ধার এই করুণ পরিস্থিতি এবং পুলিশের চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসতেই তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপ নেন ডিএম। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাছ কাটার আসল সত্যতা এবং পুলিশের এমন একপেশে ও বিতর্কিত পদক্ষেপের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই কমিটিকে। জেলাশাসক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসতেই দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *