স্কুলের সহপাঠীর বাড়িতে دশম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যমৃত্যু! একতরফা প্রেমের জেরেই কি মর্মান্তিক পরিণতি?

হরিয়ানার ফরিদাবাদে দশম শ্রেণির এক ১৭ বছর বয়সী ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাভাইয়ের শিব শক্তি এনক্লেভে এক সহপাঠীর বাড়ি থেকে অর্জুন নামের ওই ছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে পরিবারের তরફ থেকে এটি খুনের অভিযোগ তোলা হলেও, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্কুল ইউনিফর্মের টাই গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই কিশোর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনরোষ ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে ৯ জন দাঙ্গাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
বন্ধুত্ব থেকে একতরফা প্রত্যাখ্যান:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাই নগর পার্ট-২ এর বাসিন্দা অর্জুন এবং মাভাইয়ের ওই কিশোরী স্থানীয় একটি স্কুলেই দশম শ্রেণীতে পড়ত। প্রায় দুই বছর আগে অর্জুন ওই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে কথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সহপাঠীসুলভ সেই আলাপ গভীর বন্ধুত্বে এবং পরবর্তীতে অর্জুনের একতরফা ভালোবাসায় রূপ নেয়। কিন্তু কিশোরী তার প্রেমের প্রস্তাব একাধিকবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
স্কুলে নালিশ ও পরিবারের হস্তক্ষেপ:
অর্জুনের লাগাতার চাপে বিরক্ত হয়ে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এর জেরে প্রায় এক সপ্তাহ আগে মেয়েটির বাবা সরাসরি স্কুলে গিয়ে অধ্যক্ষ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অর্জুনের বিরুদ্ধে হয়রানির লিখিত অভিযোগ জানান। খবর পেয়ে অর্জুনের পরিবারও স্কুলে এসে ক্ষমা চেয়ে নেয়। সেই সময় বিষয়টি মিটে গেছে ভেবে পুলিশে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা:
গত বৃহস্পতিবার মেয়েটি তার ছোট ভাইকে টিউশনে নিয়ে যাওয়ার সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে একা ছিলেন তার ৭০ বছর বয়সি ঠাকুমা। সেই সুযোগেই জোর করে মেয়েটির বাড়িতে প্রবেশ করে অর্জুন। বাড়ির নিচতলায় অবস্থিত একটি বিউটি পার্লারের ঘরে নিজের স্কুল ইউনিফর্মের টাই দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করে। কিছু সময় পর টিউশন থেকে ফিরে ঘরের ভেতর ছাত্রটির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। সে সঙ্গে সঙ্গে তার বাবাকে খবর দেয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
উত্তাল জনতা ও পুলিশের কড়া পদক্ষেপ:
ছাত্রের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই সাই নগর ও আশেপাশের এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের একটি উগ্র জনতা এসে মেয়েটির বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাস্তায় এনে ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো খেড়ি পুল থানার পুলিশকর্মীদেরও জনতার আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেয়েটির পরিবারকে বাড়ির ওপরের তলায় সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।